মিম্বার
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
মিম্বার
মূলপাতা অন্যান্য

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৭

শ্রুতিলেখক: আবরার জাহিন চৌধুরী

টপিক: অন্যান্য, উম্মাহর সংকট ও সমাধান
Share on FacebookShare on TwitterShare on WhatsAppShare on TelegramSend Email

একটি সভ্যতার সৌন্দর্য কোথায়?

একটি সভ্যতা কতটা উন্নত, তা কি শুধু তার আকাশছোঁয়া ভবন, শক্তিশালী অর্থনীতি, আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা সামরিক ক্ষমতা দিয়ে মাপা যায়?

নাকি একটি সভ্যতার প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে সে তার দুর্বল মানুষটির সঙ্গে কেমন আচরণ করে, ভিন্ন মানুষকে কতটা জায়গা দেয়, তার সন্তানদের কী ধরনের চরিত্রে গড়ে তোলে, শিল্প ও সৌন্দর্যকে কীভাবে দেখে, অসুস্থ মানুষের জন্য কী করে এবং ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রচলিত মাপকাঠিগুলোকে কতটা ন্যায়সঙ্গতভাবে বদলে দিতে পারে—সেখানে?

ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার সামাজিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায় ড. তারেক আল-সুওয়াইদান এই প্রশ্নগুলোর দিকেই ফিরে তাকান। তাঁর কাছে একটি সভ্যতা কেবল শক্তিশালী হলেই পূর্ণাঙ্গ হয় না; তাকে হতে হয় মানবিক, নৈতিক, সুন্দর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

আগের পর্বগুলোতে জ্ঞান, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর কথা এসেছে। এবার আলোচনার কেন্দ্র মানুষ নিজেই—তার চরিত্র, তার মানসিকতা, তার সৌন্দর্যবোধ এবং অন্য মানুষের প্রতি তার আচরণ।

বৈচিত্র্যের মাঝে পরিচয়ের সৌন্দর্য

পৃথিবীর সব মানুষ একই রকম নয়। কারও ভাষা আলাদা, কারও চেহারা, কারও সংস্কৃতি, কারও জাতিগত পরিচয়, এমনকি কারও ধর্মীয় পরিচয়ও ভিন্ন।

প্রশ্ন হলো, এই পার্থক্যগুলো কি বিভেদের কারণ হবে, নাকি একে অপরকে জানার সুযোগ?

ড. আল-সুওয়াইদান কুরআনের একটি মৌলিক আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করেন:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ

“হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমরা তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।”
সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩।

এখানে পার্থক্যকে মুছে ফেলার কথা বলা হয়নি। বরং পার্থক্যকে পরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়েছে।

ড. আল-সুওয়াইদান ইসলামী স্পেনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সভ্যতার বিকাশ কেবল আরব মুসলিমদের হাতে হয়নি। উত্তর আফ্রিকার আমাজিগ জনগোষ্ঠী, ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষও সেই সমাজের জ্ঞান, চিকিৎসা, প্রশাসন ও সংস্কৃতিতে অবদান রেখেছিল।

তাঁর বক্তব্যের মূল শিক্ষা হলো—একটি সভ্যতা তখনই সমৃদ্ধ হয়, যখন সে মানুষের পার্থক্যকে ভয় না পেয়ে যোগ্যতা ও অবদানকে গ্রহণ করতে শেখে।

বৈচিত্র্য তখন দুর্বলতা নয়; হয়ে ওঠে সভ্যতার সম্পদ।

চরিত্র তৈরি না হলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ

একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশু ও তরুণদের ওপর। কিন্তু তাদের কেবল তথ্য দিয়ে শিক্ষিত করলেই কি একটি ভালো সমাজ তৈরি হবে?

ড. আল-সুওয়াইদানের উত্তর স্পষ্ট—না।

জ্ঞান যদি চরিত্র তৈরি না করে, তাহলে সেই জ্ঞান কখনো কখনো সমাজের জন্য বিপজ্জনকও হতে পারে। একজন মানুষ যত বেশি দক্ষ হবে, তার নৈতিকতা তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই কারণেই তিনি চরিত্র শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার একটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে দেখেন। নৈতিকতা শুধু বক্তৃতার বিষয় হবে না; তা পরিবার, বিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার নিয়মিত অংশ হতে হবে।

তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সেই সুপরিচিত বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে তাঁর প্রেরণের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে উত্তম চরিত্র পূর্ণতা দেওয়ার কথা এসেছে।

ইসলামী শিক্ষার ঐতিহ্যেও জ্ঞান ও আদবকে আলাদা করা হয়নি। কুরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি শিষ্টাচার, সম্মান, নৈতিকতা ও মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ শেখানোর একটি সংস্কৃতি ছিল।

কারণ একটি সভ্যতা শুধু জ্ঞানী মানুষ চায় না।

সে চায় বিশ্বস্ত মানুষ, ন্যায়পরায়ণ মানুষ এবং দায়িত্বশীল নেতা।

শক্তিশালী সমাজের মাপকাঠি দুর্বল মানুষের অবস্থান

একটি সভ্যতার শক্তি বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হয়তো তার সবচেয়ে দুর্বল মানুষের দিকে তাকানো।

অসুস্থ মানুষটির জন্য কী ব্যবস্থা আছে?

বৃদ্ধ মানুষটির জন্য?

দরিদ্র মানুষের জন্য?

প্রান্তিক মানুষের জন্য?

যে মানুষটি নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, তার জন্য?

ড. আল-সুওয়াইদান তাই ভবিষ্যৎ সমাজের আরেকটি স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন সহমর্মিতাকে।

ইসলামের সামাজিক নীতি শুধু আইন ও প্রশাসনের কাঠামো দিয়ে তৈরি হবে না; তার ভেতরে থাকবে রহমত।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَٰنُ

“যারা দয়া করে, পরম দয়াময় তাদের প্রতি দয়া করেন।”

এই দয়া শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাণীর প্রতিও ইসলামের করুণার শিক্ষা রয়েছে। অর্থাৎ একটি সভ্যতার নৈতিকতার পরিধি যত বিস্তৃত হয়, তার মানবিকতাও তত গভীর হয়।

এই কারণেই ইসলামী ইতিহাসে হাসপাতাল নির্মাণের উদাহরণও তিনি সামনে আনেন। মুসলিম সভ্যতায় এমন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল যেখানে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা করা হতো, এবং বক্তার বর্ণনা অনুযায়ী, রোগীর পরিচয় নির্বিশেষে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।

সভ্যতার সৌন্দর্য তখন শুধু প্রাসাদের দেয়ালে নয়, অসুস্থ মানুষের শয্যার পাশেও দেখা যায়।

সৌন্দর্য সভ্যতার ভাষা

সভ্যতা শুধু কীভাবে বাঁচে তা নয়; কীভাবে সুন্দরভাবে বাঁচে, সেটিও তার পরিচয়ের অংশ।

ড. আল-সুওয়াইদান তাই ইসলামী শিল্পকলার পুনর্জাগরণের কথা বলেন।

তাঁর মতে, শিল্প মানুষের কল্পনাকে গড়ে তোলে। আর কল্পনা সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে। ফলে শিল্পকে একেবারে অপ্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে সরিয়ে রাখলে একটি সভ্যতার সাংস্কৃতিক শক্তিরও ক্ষতি হয়।

তিনি ইসলামী শিল্পের পরিচিত ধারাগুলো—ক্যালিগ্রাফি, জ্যামিতিক নকশা, স্থাপত্য ও অলংকরণের কথা বলেন। মসজিদের দেয়ালে কুরআনের আয়াত, জ্যামিতিক নকশা কিংবা সৌন্দর্যময় স্থাপত্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের মনে যে অনুভূতি তৈরি করেছে, সেটিও একটি সভ্যতার সাংস্কৃতিক শক্তি।

তবে শিল্পের বৈধতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। তিনি মনে করেন, শিল্পকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নটি মূলত দুটি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত—আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনার দিকে নিয়ে যাওয়া এবং যৌন আবেদন বা লালসাকে উসকে দেওয়া।

এখানে তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ঘরে থাকা একটি নকশাযুক্ত পর্দার হাদিসের ঘটনাও উল্লেখ করেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, সেটি থাকার কারণে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং নামাজে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায় বলে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এটি তাঁর আলোচনার একটি ফিকহি ব্যাখ্যা; শিল্পকলার সব ধরন নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে যে বিস্তারিত মতপার্থক্য রয়েছে, সেটি এই আলোচনার বিষয় নয়।

তবে তাঁর মূল বক্তব্যটি পরিষ্কার—একটি ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতা সৌন্দর্যবোধহীন হবে না।

কারণ রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন।”

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিসে সৌন্দর্যের প্রতি ইসলামের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি পাওয়া যায়।

পরিচ্ছন্নতা শুধু অভ্যাস নয়

সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার সম্পর্কও অবিচ্ছেদ্য।

একটি শহর কতটা উন্নত, তা শুধু তার ভবনের উচ্চতা দিয়ে বোঝা যায় না। তার রাস্তা কতটা পরিষ্কার, পানি কতটা নিরাপদ, পরিবেশ কতটা সুশৃঙ্খল, জনপরিসর কতটা সুন্দর—এসবও সভ্যতার পরিচয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ

“পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।”

সহিহ মুসলিম ২২৩-এ এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

ড. আল-সুওয়াইদান তাই ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার কল্পনায় পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও পরিবেশের সৌন্দর্যকে সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখতে চান।

দামেস্ক, বাগদাদ কিংবা কর্ডোবার মতো ঐতিহাসিক মুসলিম নগরগুলোর বাগান, ঝরনা, স্থাপত্য ও নগর-সৌন্দর্যের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

অর্থাৎ একটি সভ্যতা মানুষের শুধু শরীর ও পেটের প্রয়োজন পূরণ করবে না; তার চোখ, মন এবং সৌন্দর্যবোধেরও যত্ন নেবে।

আমরা কাদের অনুসরণ করছি?

একটি সমাজ তার তরুণদের যাদের সামনে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে, ধীরে ধীরে সে সমাজও তাদের মতো হতে শুরু করে।

আজকের পৃথিবীতে তরুণদের সামনে অসংখ্য তারকা, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। জনপ্রিয় হওয়া নিজে কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু জনপ্রিয়তার সঙ্গে যদি চরিত্র না থাকে, তাহলে সেই জনপ্রিয়তা আদর্শে পরিণত হলে বিপদ তৈরি হতে পারে।

ড. আল-সুওয়াইদান তাই positive role model-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

কুরআন রাসুলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে ঘোষণা করেছে:

لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”

সূরা আল-আহযাব, ৩৩:২১।

এখানে তিনি আরবি উসওয়া শব্দটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে—কেউ খেলাধুলায় অনুপ্রেরণা হতে পারেন, কেউ বক্তৃতায়, কেউ বিজ্ঞানে, কেউ শিল্পে। কিন্তু জীবনের সামগ্রিক আদর্শের প্রশ্নে মুসলিমের সর্বোচ্চ আদর্শ রাসুলুল্লাহ ﷺ।

অর্থাৎ সমাজকে শুধু তারকাদের তৈরি করতে হবে না; তাকে যোগ্য মানুষকে আদর্শে পরিণত করতে হবে।

সুস্থ হৃদয়, সুস্থ সমাজ

একটি সমাজের আরেকটি অদৃশ্য সংকট রয়েছে—মানুষের ভেতরের অস্থিরতা।

বাইরে সবকিছু ঠিকঠাক দেখালেও মানুষ যদি ভেতরে ভেঙে পড়ে, তাহলে সেই সমাজকে সত্যিকার অর্থে সুস্থ বলা যায় না।

ড. আল-সুওয়াইদান তাই মানসিক ও আত্মিক সুস্থতাকেও সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখেন।

ইসলামী ঐতিহ্যে মানুষের হৃদয়, প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সেই প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিখ্যাত হাদিসটি স্মরণ করান:

“জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে; সেটি ঠিক থাকলে পুরো শরীর ঠিক থাকে, আর সেটি নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়। সেটি হলো হৃদয়।”

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিসটি মানুষের অন্তরের অবস্থার গুরুত্ব বোঝায়।

এখানে ‘হৃদয়’কে শুধু শারীরিক অঙ্গ হিসেবে দেখলে বক্তব্যের গভীরতা হারিয়ে যায়। মানুষের নৈতিকতা, অন্তরের বিশুদ্ধতা, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মানসিক অবস্থাও তার আচরণকে প্রভাবিত করে।

ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও আত্মিক প্রশান্তি নিয়েও মুসলিম চিন্তাবিদদের আলোচনা ছিল—ড. আল-সুওয়াইদান এ ধারার উদাহরণ হিসেবে ইমাম রাজির কথা উল্লেখ করেন।

তাঁর কাছে জ্ঞান কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। চিকিৎসা, দর্শন, আইন, আধ্যাত্মিকতা ও মানুষের মানসিক সুস্থতা—সবই বৃহত্তর মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত।

শেষ দেয়ালটিও ভাঙতে হবে

সবশেষে তিনি এমন একটি বিষয় সামনে আনেন, যার বিরুদ্ধে ইসলাম শুরু থেকেই অবস্থান নিয়েছে—গোত্রবাদ ও বর্ণবাদ।

মানুষের বংশ, রং, জাতি কিংবা গোত্র তাকে অন্য মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ করে না।

এই সত্যটি সূরা হুজুরাতের ৪৯:১৩ আয়াতেই স্পষ্ট: মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করা হয়েছে পরিচিত হওয়ার জন্য, শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করার জন্য নয়। আল্লাহর কাছে মর্যাদার মাপকাঠি হলো তাকওয়া।

আর এই নীতিকে শুধু তত্ত্ব হিসেবে রেখে দেয়নি ইসলামী ইতিহাসের কিছু ঘটনাও।

এর সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে আসে বিলাল ইবন রাবাহ (রা.)-এর নাম।

তিনি ছিলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত একজন দাস, যিনি মক্কার প্রথম যুগে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আবু বকর (রা.) তাঁকে মুক্ত করেন। পরে তিনি ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হিসেবে ইতিহাসে অনন্য মর্যাদা লাভ করেন।

কিন্তু ড. আল-সুওয়াইদানের বক্তব্যে বিলাল (রা.)-এর গুরুত্ব শুধু আজানের কণ্ঠে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি তাঁকে মুসলিম সমাজের পরামর্শমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসরেও সম্মানিত একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

এরপর তিনি উমর (রা.)-এর সময়কার একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। ইরাক বিজয়ের পর সেখানকার বিশাল কৃষিজমি নিয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বণ্টন কীভাবে হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। উমর (রা.) এক অবস্থান গ্রহণ করেন, আর বিলাল (রা.) তাঁর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। বক্তার বর্ণনা অনুযায়ী, বিলাল (রা.)-এর আপত্তির কারণে বিষয়টি সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি এবং উমর (রা.) তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

এই ঘটনাকে ড. আল-সুওয়াইদান যে জায়গায় নিয়ে যান, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মানুষ একসময় দাস ছিলেন কি না, কোন গোত্রে জন্মেছেন, তাঁর গায়ের রং কী—এসব কোনো কিছুই ইসলামী সমাজে তাঁর নৈতিক মর্যাদা ও যুক্তির মূল্য নির্ধারণ করার চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না।

একজন শাসকও ভুল করতে পারেন। আর একজন প্রাক্তন দাসও এমন অবস্থানে দাঁড়াতে পারেন, যেখানে তার মতামত শোনা এবং বিবেচনা করা জরুরি।

এটাই একটি সভ্যতার গভীর ন্যায়বোধের পরীক্ষা।

সভ্যতা শেষ পর্যন্ত মানুষেরই গল্প

ড. আল-সুওয়াইদানের এই পর্বের শেষ প্রান্তে এসে মনে হয়, তিনি আসলে নতুন কোনো সভ্যতার শুধু কাঠামো আঁকছেন না; তিনি তার চরিত্রের নকশা আঁকছেন।

একটি সভ্যতা কেমন হবে?

সে বৈচিত্র্যকে ভয় পাবে না।

সে সন্তানদের শুধু পরীক্ষায় ভালো করার শিক্ষা দেবে না; ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দেবে।

সে দুর্বলকে অবহেলা করবে না।

সে সৌন্দর্যকে অস্বীকার করবে না।

সে পরিচ্ছন্নতাকে তুচ্ছ করবে না।

সে তরুণদের সামনে শুধু জনপ্রিয় মানুষ নয়, যোগ্য ও নৈতিক মানুষকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরবে।

সে মানুষের মানসিক ও আত্মিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেবে।

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সে মানুষের জন্মপরিচয়কে তার মর্যাদার মাপকাঠি বানাবে না।

কারণ ইতিহাসে অনেক সভ্যতা শক্তিশালী হয়েছে, অনেক সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়েছে, অনেক শহর সম্পদে ভরে উঠেছে। কিন্তু সব শক্তিশালী সমাজ মানবিক সমাজ হয়ে উঠতে পারেনি।

ইসলামী সভ্যতার ভবিষ্যৎ কল্পনা তাই শুধু আরও বড় ভবন, আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র কিংবা আরও উন্নত প্রযুক্তির স্বপ্ন নয়।

এটি এমন এক সমাজের স্বপ্ন, যেখানে শক্তির সঙ্গে চরিত্র থাকবে, জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতা থাকবে, সৌন্দর্যের সঙ্গে পবিত্রতা থাকবে এবং উন্নতির সঙ্গে মানুষের মর্যাদাও অটুট থাকবে।

শেষ পর্যন্ত একটি সভ্যতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তার স্থাপত্যে নয়।

তার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—সে মানুষকে কতটা মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

এই টপিকের অন্যান্য প্রবন্ধ

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১২

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১২

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১১

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১১

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১০

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১০

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৯

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৯

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৮

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৮

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৬

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৬

© ২০২১ মিম্বার
প্রচার করো, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়

No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ

© 2020 মিম্বার