মিম্বার
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
মিম্বার
মূলপাতা অন্যান্য

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৬

শ্রুতিলেখক: আবরার জাহিন চৌধুরী

টপিক: অন্যান্য, উম্মাহর সংকট ও সমাধান
Share on FacebookShare on TwitterShare on WhatsAppShare on TelegramSend Email

একটি সভ্যতার হৃদয়

সভ্যতা কেবল তার জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। তার গভীরে থাকে এমন কিছু মূল্যবোধ, যা মানুষকে মানুষের সঙ্গে, পরিবারকে সমাজের সঙ্গে এবং সমাজকে একটি বৃহত্তর নৈতিক আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে। আইন অপরাধ ঠেকাতে পারে, প্রতিষ্ঠান শৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, কিন্তু একটি সমাজকে দীর্ঘদিন একত্রে ধরে রাখে তার অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা।

ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার কথা বলতে গিয়ে ড. তারেক আল-সুওয়াইদান এবার সেই সামাজিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিগুলোর দিকে ফিরে তাকান। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, ইসলামি সভ্যতার স্থায়িত্ব শুধু কতগুলো আইন প্রয়োগ করা হলো তার ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে সেই সমাজের মানুষ ন্যায়, দায়িত্ব, সহমর্মিতা, পরিবার, পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক কল্যাণকে কতটা নিজেদের জীবনের অংশ করে নিতে পারল তার ওপর।

এই নির্মাণের শুরু পরিবার থেকে।

একটি শক্তিশালী পরিবার তাঁর কাছে সমগ্র সমাজের ভিত্তি। স্থিতিশীল বিবাহ, ভালোবাসায় পূর্ণ ঘর এবং দায়িত্বশীল সন্তান প্রতিপালন ছাড়া সুস্থ সমাজ নির্মাণ করা কঠিন। কারণ সমাজের সবচেয়ে ক্ষুদ্র এককটিই যদি ভঙ্গুর হয়, তার ওপর দাঁড়ানো বৃহৎ কাঠামোও শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

কুরআন দাম্পত্য সম্পর্ককে কেবল একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখেনি; বরং এর মধ্যে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার সম্পর্ক দেখতে বলেছে।

“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।”
— সূরা আর-রূম, ৩০:২১

ড. সুওয়াইদান মদিনার প্রথম মুসলিম সমাজের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে শিশুরা কেবল কুরআন শেখেনি, তারা নৈতিকতাও শিখেছে। অর্থাৎ শিক্ষা, পরিবার ও চরিত্র গঠনের বিষয়গুলো আলাদা ছিল না। একটি শিশুকে তৈরি করার অর্থই ছিল ভবিষ্যৎ সমাজের একজন দায়িত্বশীল মানুষকে তৈরি করা।

কিন্তু পরিবার যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো সমাজ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ড. সুওয়াইদানের ভাষায়, এমনকি মুসলিম সভ্যতাও যদি ন্যায়বিচার হারায়, তবে তার পতন অনিবার্য; বিপরীতে কোনো সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকলে তার টিকে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

ইসলামে ন্যায়বিচার শুধু আদালতের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাজারে, রাষ্ট্র পরিচালনায়, পরিবারে এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কেও এর প্রকাশ ঘটতে হয়।

কুরআনে বলা হয়েছে,

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সঙ্গে বিচার করবে।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:৫৮

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্দেশটি শুধু মুসলমানদের মধ্যে বিচার করার কথা বলে না; বলা হয়েছে “মানুষের মধ্যে” বিচার করার কথা। অর্থাৎ ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করবে না।

এই নীতির বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সময়কার একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। দুর্ভিক্ষের সময়ে কিছু লোক চুরি করেছিল। কিন্তু উমর (রা.) কেবল চুরির ঘটনাটি দেখেননি, তিনি দেখেছিলেন তার পেছনের পরিস্থিতিও। তাদের মালিক তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করেননি। ফলে শাস্তি দেওয়ার আগে তিনি সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করেছিলেন। তাঁর কাছে ন্যায়বিচার মানে শুধু অপরাধ খুঁজে বের করা নয়; অন্যায় পরিস্থিতির উৎসও শনাক্ত করা।

এমনকি তিনি সেই মালিককেও জবাবদিহির আওতায় আনেন, যিনি নিজের অধীনস্থদের প্রয়োজন পূরণ করেননি। ড. সুওয়াইদানের উপস্থাপনায় ঘটনাটি দেখায়, ইসলামি ন্যায়বিচার শাস্তির যান্ত্রিক প্রয়োগ নয়; বরং দায়িত্ব, অধিকার ও পরিস্থিতির সামগ্রিক মূল্যায়ন।

এর পরেই আসে চরিত্রের প্রশ্ন।

একটি সমাজকে শুধু আইন মেনে চলা মানুষের সমাজ বানানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন মানুষ, যাদের মধ্যে সততা, বিনয়, দয়া ও বিশ্বস্ততা স্বাভাবিক সামাজিক গুণে পরিণত হয়েছে। কারণ আইন মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে অন্যায় করার চিন্তা থেকেই দূরে রাখতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন এখানে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। নবুয়ত লাভের আগেই মক্কার মানুষ তাঁকে আল-আমিন, অর্থাৎ বিশ্বস্ত, এবং আস-সাদিক, অর্থাৎ সত্যবাদী হিসেবে চিনত।

ড. সুওয়াইদান আধুনিক নেতৃত্ববিষয়ক গবেষণার একটি প্রসঙ্গও এখানে টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। আর বিশ্বাসযোগ্যতার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বস্ততা ও সত্যবাদিতা। অর্থাৎ আধুনিক নেতৃত্ববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামাজিক পরিচয়ের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মিল তিনি দেখতে পান।

একইভাবে সমাজের শক্তি নির্ভর করে তার দুর্বল মানুষগুলোর অবস্থার ওপরও। দরিদ্র, অসুস্থ, অসহায় ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সমাজের বাইরে পড়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। ইসলামের তাকাফুল বা সামাজিক সংহতির ধারণা এই দায়িত্ববোধকেই সামনে আনে।

কুরআনের নির্দেশ,

“সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে তোমরা একে অন্যকে সহযোগিতা করো।”
— সূরা আল-মায়িদা, ৫:২

মদিনার আনসারদের জীবনে এই নীতির বাস্তব রূপ দেখা যায়। মক্কা থেকে আগত মুহাজিররা যখন মদিনায় এলেন, আনসাররা তাদের সঙ্গে নিজেদের ঘর, সম্পদ ও সামর্থ্য ভাগ করে নিয়েছিলেন। এটি শুধু দানশীলতার ঘটনা নয়; বরং একটি সমাজ কীভাবে একজন মানুষের সংকটকে নিজের সামষ্টিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভালোকে উৎসাহ দেওয়া এবং মন্দকে প্রতিহত করার দায়িত্ব, যাকে ইসলামী পরিভাষায় বলা হয় আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার। কুরআনে মুসলিম উম্মাহর একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়েছে,

“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।”
— সূরা আলে ইমরান, ৩:১১০

তবে ড. সুওয়াইদান এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও সামনে রাখেন: ভালো প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা হতে হবে প্রজ্ঞা ও দয়ার সঙ্গে। সমাজ সংশোধনের নামে হিংস্রতা, অপমান কিংবা অমানবিকতা ইসলামি নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই সামাজিক কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী। ড. সুওয়াইদানের আলোচনায় নারীকে শুধু পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সামাজিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবেও দেখা হয়। তিনি আয়েশা (রা.)-এর দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন, যিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব এবং বহু হাদিসের বর্ণনাকারী ছিলেন।

অন্যদিকে তিনি আধুনিক বাণিজ্যিক সংস্কৃতির একটি বৈপরীত্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। একদিকে নারীর মর্যাদা ও অধিকারের কথা বলা হয়, অন্যদিকে বিজ্ঞাপন ও বাজারব্যবস্থায় কখনো কখনো নারীর শরীরকে পণ্য বিক্রির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাঁর প্রশ্নটি মূলত মর্যাদার সংজ্ঞা নিয়ে: নারীকে মর্যাদা দেওয়ার অর্থ কি শুধু কিছু অধিকার নিশ্চিত করা, নাকি তাকে কোনো পণ্যের বিপণন-উপকরণে পরিণত না করাও সেই মর্যাদার অংশ?

এরপর তাঁর আলোচনায় আসে তরুণ সমাজ। যে সভ্যতা তার তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে না, সে নিজের ভবিষ্যৎকেই দুর্বল করে। তরুণদের শুধু প্রশংসা নয়, প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও আস্থার সুযোগ দিতে হবে।

আসহাবে কাহফের তরুণদের কথা উল্লেখ করে কুরআন বলে,

“নিশ্চয়ই তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল; আর আমরা তাদের হেদায়াত আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।”
— সূরা আল-কাহফ, ১৮:১৩

ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসেও তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। ড. সুওয়াইদান উসামা ইবনু যায়দ (রা.)-এর কথা বলেন, যিনি অল্প বয়সেই একটি বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যে এই ঘটনা একটি বড় সামাজিক দর্শনের প্রতীক: তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের মানুষ হিসেবে দেখা নয়, প্রয়োজন হলে বর্তমানের দায়িত্বও তাদের হাতে তুলে দেওয়া।

তবে তারুণ্যের শক্তির সঙ্গে প্রবীণদের প্রজ্ঞার সমন্বয়ও জরুরি। একটি সুস্থ সভ্যতা তার বয়োজ্যেষ্ঠদের অপ্রয়োজনীয় মনে করে না। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্তের পরিপক্বতা ও দীর্ঘদিনের অর্জিত জ্ঞান সমাজের সম্পদ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

অর্থাৎ একটি প্রজন্মকে আরেক প্রজন্মের প্রতিদ্বন্দ্বী না বানিয়ে তাদের মধ্যে একটি জ্ঞানগত ও নৈতিক সেতু তৈরি করাই সুস্থ সামাজিক সংস্কৃতির লক্ষণ।

শিশুর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একটি সভ্যতার ভবিষ্যৎ তার শিশুদের মধ্যে তৈরি হয়। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নৈতিক বিকাশকে তাই রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রাখতে হবে। ড. সুওয়াইদান এ প্রসঙ্গে শিশুদের সম্মান করা এবং সুন্দর আচরণ শেখানোর ওপর জোর দেওয়া হাদিসের কথা উল্লেখ করেন।

সমাজের সংহতি আবার কেবল পরিবার বা রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সবচেয়ে কাছের পরিসর হলো প্রতিবেশী।

কুরআনে আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত এবং নিকট ও দূর প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের কথা বলা হয়েছে।

“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী ও দূর প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করো…”
— সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬

এই নীতির বৃহত্তর সামাজিক প্রতিফলন ড. সুওয়াইদান মদিনার সনদের প্রসঙ্গে দেখেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় মুসলমানদের পাশাপাশি সেখানকার ইহুদিদের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়ও একটি সামাজিক চুক্তির কাঠামোর মধ্যে এনেছিলেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পদের অধিকার ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে গড়ে উঠেছিল একটি সামাজিক সমঝোতা।

অর্থাৎ একই সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের স্বীকৃতি একটি সুসংহত সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

এই দায়িত্ববোধ ঘরের দরজা পেরিয়ে নাগরিক জীবনের মধ্যেও প্রবেশ করে। ইসলাম মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকার শিক্ষা দেয় না। বরং সমাজের উপকারে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক আদর্শ।

ইসলামি ইতিহাসে জনসাধারণের জন্য পানির ব্যবস্থা, বিদ্যালয়, গ্রন্থাগার ও হাসপাতালসহ নানা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার দৃষ্টান্ত রয়েছে। ড. সুওয়াইদানের বক্তব্যে এগুলো একটি বৃহত্তর নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ, যেখানে সামাজিক সেবা শুধু নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকে না।

সবশেষে আসে বিরোধ মীমাংসার প্রশ্ন।

মানুষের সমাজে মতভেদ থাকবে, বিরোধ থাকবে। কিন্তু প্রতিটি বিরোধ যদি প্রতিশোধ, মামলা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতায় পরিণত হয়, তাহলে সামাজিক বন্ধন ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। ইসলাম তাই ক্ষমা, সমঝোতা ও মীমাংসাকে গুরুত্ব দেয়।

কুরআনে বলা হয়েছে,

“আর মীমাংসাই উত্তম।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:১২৮

ড. সুওয়াইদান এ প্রসঙ্গে শুরাইহ নামের একজন বিচারকের ঘটনা বর্ণনা করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁকে মদিনার বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এক বছর পর শুরাইহ যখন পদত্যাগ করতে এলেন, উমর (রা.) বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন, কোনো বিচার কি এমন হয়েছিল যা কার্যকর করা হয়নি?

শুরাইহ জানালেন, তা নয়। বরং পুরো এক বছরে তাঁর কাছে কোনো বিরোধই আসেনি।

মানুষ আদালতে যাওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে নিয়েছিল।

এই ছোট্ট ঘটনাটির মধ্যেই ড. সুওয়াইদান একটি বড় সামাজিক আদর্শ দেখতে পান। এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আগে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে; আদালতকে প্রথম আশ্রয় নয়, বরং শেষ আশ্রয় হিসেবে দেখে; প্রতিশোধের বদলে মীমাংসাকে অগ্রাধিকার দেয়।

শেষ পর্যন্ত এই পর্বের প্রতিটি স্তম্ভ এসে একই জায়গায় মিলিত হয়। পরিবার মানুষকে গড়ে, ন্যায়বিচার তাকে নিরাপত্তা দেয়, নৈতিকতা তাকে চরিত্র দেয়, সামাজিক সংহতি তাকে একা হতে দেয় না, তরুণরা ভবিষ্যতের শক্তি হয়ে ওঠে, প্রবীণরা পথ দেখান, শিশুরা আগামী দিনের ভিত্তি তৈরি করে, প্রতিবেশী ও নাগরিকরা পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং বিরোধ মীমাংসার সংস্কৃতি সমাজকে অকারণ সংঘাত থেকে রক্ষা করে।

একটি সভ্যতার স্থায়িত্ব তাই কেবল তার আইনের শক্তিতে নয়, তার মানুষের চরিত্রে।

আইন মানুষকে বাধ্য করতে পারে।
কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে ভেতর থেকে বদলায়।

আর সেই কারণেই ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার স্বপ্নে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ কোনো অলংকার নয়; এগুলোই তার ভিত।

এই টপিকের অন্যান্য প্রবন্ধ

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১২

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১২

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১১

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১১

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১০

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১০

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৯

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৯

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৮

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৮

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৭

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৭

© ২০২১ মিম্বার
প্রচার করো, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়

No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ

© 2020 মিম্বার