জ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়
একজন মানুষ যখন কোনো নতুন সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, ‘এর উত্তর কী?’ তখন তার কণ্ঠে শুধু কৌতূহল থাকে না। সেখানে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও লুকিয়ে থাকে।
মানুষের জ্ঞান এভাবেই এগিয়েছে। একটি প্রশ্ন থেকে আরেকটি প্রশ্ন, একটি অনুসন্ধান থেকে নতুন আবিষ্কার। যে সমাজ এই অনুসন্ধানকে জায়গা দেয়, তার চিন্তার পরিসর ক্রমেই বড় হয়। আর যে সমাজ প্রশ্ন করাকেই অস্বস্তিকর মনে করতে শুরু করে, সেখানে জ্ঞান একসময় পুরোনো উত্তরের পুনরাবৃত্তিতে পরিণত হয়।
ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের আলোচনায় ইসলামি সভ্যতার ভবিষ্যৎ সিরিজে তাই প্রথমেই ফিরে আসে চিন্তার প্রশ্ন। তাঁর মতে, মুসলিম সমাজকে আবার এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ শিখবে, অনুসন্ধান করবে, যুক্তি দেবে, গবেষণা করবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন বাস্তবতার জন্য নতুন সমাধানও খুঁজবে।
এই পথের শুরু ইজতিহাদ দিয়ে।
উত্তর জানা নয়, উত্তর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা
ইজতিহাদ শব্দটির ভেতরেই আছে কঠোর চেষ্টা ও সাধনার অর্থ। ধর্মীয় পরিভাষায় এটি এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর মূলনীতি সামনে রেখে এমন কোনো নতুন বিষয়ের সমাধান খোঁজা হয়, যার সরাসরি উত্তর মূল উৎসে পাওয়া যায় না।
এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে। ইজতিহাদ মানে নিজের ইচ্ছাকে ধর্মের বিধান বানিয়ে ফেলা নয়। বরং প্রয়োজন হয় গভীর জ্ঞান, দলিল বোঝার ক্ষমতা, আরবি ভাষা ও শরিয়াহর মূলনীতি সম্পর্কে দক্ষতা এবং দীর্ঘ চিন্তাশীলতার।
এই কারণেই ইসলামের ইতিহাসে একই বিষয়ে একাধিক ফিকহি মত তৈরি হয়েছে। মানুষের ব্যাখ্যা সবসময় এক হবে না। কিন্তু মতভেদ মানেই মূল বিশ্বাসে ভাঙন নয়। অনেক ক্ষেত্রে তা একই উৎসকে বোঝার ভিন্ন প্রচেষ্টার ফল।
ড. আল-সুওয়াইদান মনে করেন, এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। ইসলামি চিন্তাকে যদি কেবল অতীতের সিদ্ধান্ত মুখস্থ করার মধ্যে আটকে রাখা হয়, তাহলে নতুন সময়ের নতুন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
আজকের পৃথিবীতে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসে, তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই কয়েক শত বছর আগে ছিল না। নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি, জটিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন সম্ভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো বিষয়গুলো নিয়ে মুসলিম সমাজকে চিন্তা করতেই হবে।
ইসলামের স্থির নীতির জায়গা বদলাবে না। কিন্তু সেই নীতিগুলো নতুন বাস্তবতায় কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে চিন্তার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না।
ইমাম আবু হানিফার দারসে যে পদ্ধতি ছিল
এই জায়গায় ড. আল-সুওয়াইদান ইমাম আবু হানিফার শিক্ষাপদ্ধতির একটি দিক তুলে ধরেন।
তাঁর শিক্ষার পরিবেশে ছাত্ররা শুধু শুনে যেত না। সম্ভাব্য নানা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠত। কোনো ঘটনা ঘটলে তার বিধান কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হতো। ছাত্ররা নিজেদের মত দিত, যুক্তি দেখাত, এরপর শিক্ষক সেই আলোচনাকে সংশোধন ও পরিমার্জন করতেন।
এ ধরনের শিক্ষা একজন মানুষকে শুধু ‘কী’ শেখায় না, ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ ভাবতেও শেখায়।
হয়তো এখানেই আজকের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি পুরোনো কিন্তু জরুরি শিক্ষা রয়েছে। জ্ঞান যদি কেবল মুখস্থ করার বিষয় হয়, তাহলে পরীক্ষার খাতা ভরবে। কিন্তু প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি না হলে নতুন কোনো জ্ঞান জন্ম নেবে না।
মাদরাসার দেয়াল পেরিয়ে জ্ঞানের রাজ্যে
চিন্তার পরেই আসে শিক্ষা।
ড. আল-সুওয়াইদানের মতে, ইসলামি শিক্ষার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক জ্ঞানকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার প্রবণতা। একজন মুসলিম শিক্ষার্থীকে কুরআন-হাদিস জানতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে পৃথিবী কীভাবে কাজ করে, সেটিও জানতে হবে।
সে চিকিৎসক হতে পারে, প্রকৌশলী হতে পারে, পদার্থবিজ্ঞানী হতে পারে, গণিতবিদ হতে পারে কিংবা নতুন কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে। এসব জ্ঞান তার ঈমানের বাইরে কোনো আলাদা জগত নয়।
কুরআন জ্ঞানকে যে মর্যাদা দিয়েছে, তা খুবই স্পষ্ট। সূরা আয-যুমারের ৯ নম্বর আয়াতে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান?
প্রশ্নটি ছোট, কিন্তু এর পরিধি অনেক বড়।
জ্ঞানী হওয়ার অর্থ শুধু ধর্মীয় বিষয়ে বেশি জানা নয়। নিজের শরীর, প্রকৃতি, সমাজ, অর্থনীতি, ইতিহাস, প্রযুক্তি এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানাও মানুষের জ্ঞানচর্চার অংশ।
‘কোন বিজ্ঞানটি সবচেয়ে জরুরি?’
আলোচনায় এক পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠে, মুসলিমদের সবচেয়ে বেশি কোন বিজ্ঞান শেখা দরকার?
উত্তরটি এক শব্দে: সবগুলো।
কারণ একটি জাতির প্রয়োজন কখনো একটিমাত্র জ্ঞানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। হাসপাতালের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান দরকার, নগর গড়তে প্রকৌশল দরকার, অর্থনীতি চালাতে গণিত ও পরিসংখ্যান দরকার, প্রযুক্তি তৈরি করতে কম্পিউটারবিজ্ঞান দরকার, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিবিজ্ঞান দরকার।
আর এসব ক্ষেত্রের একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পর্কও ক্রমেই বাড়ছে।
মুসলিম বিশ্বের সমস্যাগুলোও বিচ্ছিন্ন নয়। পানি, খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা, এসবের সমাধান খুঁজতে একসঙ্গে বহু ধরনের জ্ঞান দরকার।
তাই শুধু ভালো ছাত্র তৈরি করলেই হবে না। এমন মানুষ তৈরি করতে হবে, যারা নিজেদের জ্ঞান দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারে।
একসময় তারা বই অনুবাদ করেছিল, পরে বই লিখেছিল
ইসলামি ইতিহাসের একটি পরিচিত অধ্যায় এখানে নতুনভাবে মনে পড়ে।
আব্বাসীয় যুগে মুসলিম শাসক ও জ্ঞানীদের উদ্যোগে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্যের নানা গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হয়েছিল। কিন্তু অনুবাদ ছিল সেই যাত্রার শেষ নয়। সেই জ্ঞানকে নিয়ে মুসলিম মনীষীরা নিজেরাও কাজ করেছেন, প্রশ্ন তুলেছেন, সংশোধন করেছেন এবং নতুন কিছু যোগ করেছেন।
এভাবেই অনুবাদ ধীরে ধীরে গবেষণায় রূপ নেয়।
একটি সভ্যতার জন্য এই পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের জ্ঞান জানা এক বিষয়, আর সেই জ্ঞানকে নিজের চিন্তার উপাদান বানিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করা আরেক বিষয়।
আজও মুসলিম সমাজের সামনে একই সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে জ্ঞান তৈরি হচ্ছে, তা শিখতে হবে। কিন্তু শেষ লক্ষ্য যদি শুধু সেই জ্ঞানের ভোক্তা হওয়া হয়, তাহলে নির্ভরশীলতা থেকেই যাবে।
প্রযুক্তি হাতে এলেই উন্নতি আসে না
বিজ্ঞান যখন মানুষের হাতে নতুন ক্ষমতা তুলে দেয়, তখন প্রযুক্তি জন্ম নেয়। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে।
ড. আল-সুওয়াইদানের আলোচনায় প্রযুক্তিকে তাই কেবল যন্ত্রের বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি। মানুষের উপকারে প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই নৈতিক প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে মুসলিম প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা সময় মাপার যন্ত্র, পানি ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অর্থাৎ প্রযুক্তি গ্রহণ ও উদ্ভাবন মুসলিম সভ্যতার জন্য নতুন কোনো ধারণা নয়।
আজকের পার্থক্য হলো প্রযুক্তির গতি অনেক বেশি।
যে প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে পারে, সেটিই ভুল ব্যবহারে মানুষের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা বা নিরাপত্তার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে নৈতিক বিচারবোধও দরকার।
জ্ঞানকে ঘরে আটকে রাখা যাবে না
ইসলামি চিন্তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো জ্ঞানের মধ্যে কৃত্রিম দেয়াল না তোলা।
ইবন সিনার মতো মনীষীদের কাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, চিকিৎসা, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও ধর্মীয় চিন্তা একেবারে বিচ্ছিন্ন ছিল না। একজন মানুষ একই সঙ্গে একাধিক জগতের জ্ঞান নিয়ে কাজ করতে পারতেন।
এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির একটি গভীর তাৎপর্য আছে।
মানুষের শরীর বুঝতে গিয়ে জীববিজ্ঞান দরকার হতে পারে, কিন্তু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দরকার। একটি শহর বানাতে প্রকৌশল দরকার, কিন্তু সেই শহর মানুষের জন্য কেমন হবে, তার জন্য সমাজবোধ দরকার। অর্থনীতি বুঝতে গণিত দরকার, কিন্তু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বুঝতে ইতিহাস ও নৈতিকতাও দরকার।
জ্ঞান যত এগোয়, তার শাখাগুলোর সম্পর্কও তত দৃশ্যমান হয়।
পৃথিবীর কাছ থেকে শেখা, নিজের চোখে দেখা
অন্য সভ্যতার কাছ থেকে শেখার ব্যাপারে ড. আল-সুওয়াইদানের অবস্থানও পরিষ্কার। মুসলিমদের পৃথিবী থেকে শেখার মানসিকতা থাকতে হবে।
কিন্তু শেখা আর অন্ধ অনুকরণ এক নয়।
চীন থেকে কাগজ তৈরির প্রযুক্তি মুসলিম বিশ্বে এসেছিল। পরে মুসলিম সমাজ সেটিকে নিজেদের জ্ঞানচর্চার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করেছে। বই ছাপা ও সংরক্ষণ, জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া, শিক্ষার বিস্তার, সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়েছে।
একটি সভ্যতা অন্যের কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করলেই তার নিজস্বতা হারিয়ে যায় না। বরং গ্রহণ করা জিনিসকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী রূপ দেওয়ার ক্ষমতাই সভ্যতার পরিপক্বতার পরিচয়।
জ্ঞান কোথা থেকে এসেছে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সেটি সত্যিই উপকারী কি না এবং আমরা তাকে কীভাবে ব্যবহার করছি।
নিজের ভাষায় নিজের জ্ঞান তৈরি
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস।
ইতিহাসের একটি সময় আরবি ভাষা ছিল জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান ভাষা। মুসলিম বিশ্বের নানা অঞ্চল থেকে মানুষ আরবিতে লিখেছেন, অনুবাদ করেছেন, বিতর্ক করেছেন। বিজ্ঞান ও দর্শনের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেই ভাষার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আজকের পৃথিবীতে ইংরেজি অনেকটা সেই ভূমিকা পালন করছে।
কিন্তু অন্যের ভাষা শেখা আর নিজের ভাষাকে অক্ষম মনে করা এক কথা নয়।
একটি জাতি পৃথিবীর জ্ঞান গ্রহণ করবে, একই সঙ্গে নিজের ভাষায় সেই জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করবে, গবেষণা করবে এবং নতুন জ্ঞান তৈরি করবে। কারণ যে সমাজ নিজের জ্ঞান নিজের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে না, তার জ্ঞানও সীমিত পরিসরে আটকে থাকে।
গবেষণাগার যেখানে ভবিষ্যৎ লেখা হয়
সবশেষে আসে প্রতিষ্ঠান।
একজন অসাধারণ বিজ্ঞানী একটি যুগ বদলে দিতে পারেন। কিন্তু কয়েকজন অসাধারণ মানুষের ওপর একটি সভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করতে পারে না। প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে এক প্রজন্মের গবেষণা পরের প্রজন্মের কাজের ভিত্তি হবে।
আব্বাসীয় বাগদাদের বায়তুল হিকমাহ জ্ঞানচর্চা ও অনুবাদের ইতিহাসে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম। সেখানে বিভিন্ন সভ্যতার জ্ঞান একত্রিত হয়েছিল। বই সংগ্রহ, অনুবাদ ও গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানের আদান-প্রদানকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল।
আজকের পৃথিবীতে তার প্রয়োজন আরও বেশি।
বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, চিন্তাকেন্দ্র এবং গবেষণা তহবিল ছাড়া কোনো দেশ দীর্ঘদিন জ্ঞান ও প্রযুক্তির নেতৃত্বে থাকতে পারে না।
কুরআনের সেই দোয়াটি তাই কেবল ব্যক্তিগত প্রার্থনা নয়, একটি সভ্যতারও আকাঙ্ক্ষা হতে পারে:
“হে আমার রব, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।”
শেষ কথা: ভবিষ্যৎ তাদেরই, যারা প্রশ্ন করতে ভয় পায় না
ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের আলোচনার নয়টি দিককে পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় সামনে আসে। ইসলামি সভ্যতার পুনর্গঠনকে তিনি কেবল অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনার বিষয় হিসেবে দেখছেন না। তাঁর কাছে এটি একটি চিন্তার প্রকল্প।
ইজতিহাদ সেই চিন্তাকে গতিশীল রাখে। শিক্ষা তাকে বিস্তৃত করে। বিজ্ঞান তাকে বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত করে। প্রযুক্তি সেই জ্ঞানকে কাজে রূপ দেয়। বিভিন্ন জ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। অন্য সভ্যতা থেকে শেখার দরজা খোলা থাকে, কিন্তু নিজের পরিচয়ও অটুট থাকে। আর গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেই পুরো প্রচেষ্টাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যায়।
একটি সভ্যতা হয়তো একদিনে হারিয়ে যায় না। তেমনি তার ফিরে আসাও একদিনে ঘটে না।
হয়তো তার শুরু হয় খুব সাধারণ একটি জায়গা থেকে।
একজন শিক্ষক ছাত্রকে বলেন, “তুমি কী ভাবো?”
একজন ছাত্র বই বন্ধ করে পাল্টা প্রশ্ন করে।
একজন গবেষক প্রচলিত উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে আবার পরীক্ষা শুরু করেন।
আর একটি সমাজ ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে, জ্ঞান মানে শুধু অতীতের উত্তর জানা নয়; কখনো কখনো তার চেয়েও জরুরি হলো নতুন প্রশ্ন করতে শেখা।
সেখান থেকেই হয়তো একটি নতুন যুগের প্রথম পৃষ্ঠা লেখা শুরু হয়।




