মিম্বার
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
মিম্বার
মূলপাতা অন্যান্য

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০১

শ্রুতিলেখক: আবরার জাহিন চৌধুরী

টপিক: অন্যান্য, উম্মাহর সংকট ও সমাধান
Share on FacebookShare on TwitterShare on WhatsAppShare on TelegramSend Email

ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতা: নতুন দৃষ্টিকোণ

মুসলিম সভ্যতার ইতিহাস দীর্ঘ এবং গৌরবময়। জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিকিৎসা, দর্শন, সাহিত্য, স্থাপত্য, বাণিজ্য ও রাষ্ট্রচিন্তায় একসময় মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। সেই ইতিহাস নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কেন সেই সভ্যতার পতন হলো, মুসলিম বিশ্ব কীভাবে পিছিয়ে পড়ল, বর্তমান সংকটের কারণ কী, এসব নিয়েও কম লেখা হয়নি।

কিন্তু একটি প্রশ্ন তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত।

আগামী দিনের মুসলিম সভ্যতা কেমন হবে?

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ‘ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতা’ সিরিজের শুরুটা মূলত এই প্রশ্ন দিয়েই। তাঁর বক্তব্যের বিশেষত্ব হলো, তিনি মুসলিম সভ্যতার পুনর্জাগরণকে অতীতের কোনো একটি সময়কে হুবহু ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখতে চান না। তাঁর ভাবনায় পুনর্জাগরণ মানে হলো ইসলামের স্থায়ী নীতিগুলোকে ধারণ করে নতুন সময়ের উপযোগী একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ।

এটি অতীতের দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান নয়। বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।

ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন

মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে ড. আল-সুওয়াইদানের মনে হয়েছে, অতীত ও বর্তমান নিয়ে যতটা বিশ্লেষণ হয়েছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ততটা গভীরভাবে পরিকল্পনা করা হয়নি।

অতীত জানা দরকার। কারণ সেখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়। বর্তমানকে বোঝাও জরুরি। কারণ কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, তা না জানলে সামনে যাওয়ার পথ নির্ধারণ করা যায় না।

কিন্তু শুধু অতীত জানা আর বর্তমানের সংকট নিয়ে আলোচনা করলেই ভবিষ্যৎ তৈরি হয় না।

প্রশ্ন করতে হয়, আমরা কোথায় যেতে চাই?

কেমন শিক্ষা চাই? কেমন অর্থনীতি চাই? কেমন নেতৃত্ব চাই? কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই? মানুষের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত? জ্ঞান ও গবেষণায় আমাদের অবস্থান কোথায় হবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া ‘মুসলিম বিশ্বের পুনর্জাগরণ’ কথাটি শেষ পর্যন্ত একটি আবেগের স্লোগান হয়েই থাকতে পারে।

তাই তাঁর এই সিরিজের লক্ষ্য হলো একটি সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ-চিন্তার ভিত্তি তৈরি করা।

পুনর্জাগরণ মানে অতীতকে হুবহু ফিরিয়ে আনা নয়

ইসলামি সভ্যতার অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া এক বিষয়, আর সেই সময়ের প্রতিটি ব্যবস্থা বর্তমানেও একইভাবে চালু করার চেষ্টা করা আরেক বিষয়।

দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।

আজকের পৃথিবী এক হাজার বছর আগের পৃথিবী নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে। মানুষের জীবনযাপন বদলেছে। অর্থনীতি বদলেছে। যোগাযোগব্যবস্থা বদলেছে। রাষ্ট্রের কাঠামো বদলেছে। নতুন নতুন সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে।

তাই ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতা গড়তে হলে অতীতের সাফল্যের পেছনে থাকা মূলনীতিগুলো বুঝতে হবে, কিন্তু সেই নীতিগুলোকে আজকের বাস্তবতায় কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটিও ভাবতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে আসে।

ইসলামের মূলনীতি এক জিনিস, আর সেই মূলনীতি বাস্তবায়নের পদ্ধতি আরেক জিনিস।

ন্যায়বিচার ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা। কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যে আদালত, প্রশাসন বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, তা সময়ের সঙ্গে বদলাতেই পারে।

অর্থাৎ মূলনীতি স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু তার প্রয়োগের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

এই ভারসাম্য না বুঝলে দুটি বিপদ তৈরি হয়। একদিকে মানুষ ইসলামের স্থায়ী নীতিগুলোকেও সময়ের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক মনে করতে পারে। অন্যদিকে অতীতের কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেও ইসলামের অপরিবর্তনীয় অংশ মনে করা হতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হলে এই পার্থক্যটি পরিষ্কার থাকা জরুরি।

পরিবর্তন শুরু হবে কোথা থেকে?

মুসলিম বিশ্বের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে গেলে বাইরের কারণের কথা প্রায়ই সামনে আসে। ইতিহাস, উপনিবেশবাদ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক শোষণ কিংবা আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা অবশ্যই আলোচনার বিষয়।

কিন্তু ড. আল-সুওয়াইদান প্রশ্নটিকে আরও ভেতরের দিকে নিয়ে যান।

কোরআনে বলা হয়েছে:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের মধ্যে যা আছে তা পরিবর্তন করে।”

—সূরা আর-রাদ, ১৩:১১

এই আয়াতের আলোকে তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পরিবর্তনের দায়িত্ব মানুষের ওপরও বর্তায়।

অর্থাৎ আমরা শুধু অন্যকে দায়ী করে বসে থাকতে পারি না। নিজেদের দিকেও তাকাতে হবে।

আমাদের শিক্ষা কেমন?

আমাদের জ্ঞানচর্চা কেমন?

আমাদের নেতৃত্ব কেমন?

আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর?

আমরা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করছি, নাকি শুধু পুরোনো জ্ঞান পুনরাবৃত্তি করছি?

আমাদের তরুণেরা কি প্রশ্ন করতে শেখে?

তারা কি যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখে?

আমরা কি দক্ষ ও সৎ মানুষ তৈরি করছি?

এই আত্মসমালোচনা ছাড়া কোনো সভ্যতার পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।

পরিবর্তনের জন্য শুধু আশা যথেষ্ট নয়

ইসলামি ঐতিহ্যে নবায়ন ও সংস্কারের ধারণা রয়েছে। প্রতি শতাব্দীর শুরুতে একজন বা একদল সংস্কারকের আবির্ভাবের কথা হাদিসের বর্ণনায় এসেছে।

এই ধারণা মুসলিম সমাজের জন্য আশার জায়গা তৈরি করে। পতনই শেষ কথা নয়। একটি সমাজ আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু এই আশার অর্থ বসে থাকা নয়।

বরং এর অর্থ হলো, পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে এবং সেই পরিবর্তনের কাজে মানুষের অংশ নেওয়ার দায়িত্বও আছে।

তাই প্রশ্নটি শুধু হওয়া উচিত নয়, ‘কেউ এসে আমাদের পরিবর্তন করবে কি না।’

বরং আরও জরুরি প্রশ্ন হলো,

এই পরিবর্তনের কাজে আমি কী করতে পারি?

একজন শিক্ষক হয়তো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বদলে দিতে পারেন। সেই শিক্ষার্থীদের কেউ ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে পারেন। একজন গবেষক নতুন জ্ঞান তৈরি করতে পারেন। একজন সৎ নেতা একটি প্রতিষ্ঠানকে বদলে দিতে পারেন। একটি ভালো প্রতিষ্ঠান হাজার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।

একটি বড় পরিবর্তন অনেক সময় ছোট জায়গা থেকেই শুরু হয়।

ইসলামি সভ্যতার উদ্দেশ্য শুধু মুসলিমদের সুবিধা নয়

ড. আল-সুওয়াইদান ইসলামের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ওপর গুরুত্ব দেন: ইসলাম সমগ্র মানবতার জন্য রহমতের বার্তা।

কোরআনে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে বলা হয়েছে,

“আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপই পাঠিয়েছি।”

—সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:১০৭

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার সাফল্য শুধু মুসলিমরা কতটা শক্তিশালী হলো, তা দিয়ে মাপা যাবে না।

আরও বড় প্রশ্ন হলো, সেই সভ্যতা মানবতার জন্য কী উপকার বয়ে আনছে।

জ্ঞান সৃষ্টি করছে কি না, মানুষের জীবন সহজ করছে কি না, দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষা করছে কি না, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করছে কি না, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করছে কি না, এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে হাসপাতাল, শিক্ষাকেন্দ্র, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের যে ঐতিহ্য ছিল, তার মধ্যেও এই বৃহত্তর দায়িত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

আজকের পৃথিবীর সংকট এবং ইসলামি মূল্যবোধ

আজকের পৃথিবী অনেক দিক থেকে উন্নত। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অভূতপূর্বভাবে সহজ করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে নতুন সংকটও তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। অতিরিক্ত ভোগের সংস্কৃতি পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে। ক্ষমতা ও সম্পদের কেন্দ্রীকরণ নতুন ধরনের অন্যায় তৈরি করছে। নৈতিক প্রশ্নও অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে উঠছে।

ড. আল-সুওয়াইদানের বক্তব্য হলো, এসব সমস্যার মোকাবিলায় ইসলাম কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ভিত্তি দিতে পারে।

তার মধ্যে রয়েছে ন্যায়বিচার, ভারসাম্য, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের পৃথিবীর প্রতি আমানতদারির ধারণা।

মানুষ পৃথিবীর যা ইচ্ছা তাই করার অধিকারী নয়। তার ব্যবহারেও দায়িত্ব আছে। আজকের সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী প্রজন্মের ওপর পড়বে।

তাই উন্নয়ন মানে শুধু বেশি উৎপাদন বা বেশি ভোগ নয়। উন্নয়নের সঙ্গে ন্যায়, দায়িত্ব ও ভারসাম্যও থাকতে হবে।

সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু আসলে মানুষ

একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র, বড় অর্থনীতি কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি নিজে থেকে কোনো সভ্যতা তৈরি করে না।

এসবের পেছনে থাকে মানুষ।

জ্ঞানী মানুষ, দক্ষ মানুষ, সৎ মানুষ, চিন্তাশীল মানুষ এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ।

তাই ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হতে পারে মানুষের ওপর বিনিয়োগ।

এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ বুঝবে এবং আধুনিক পৃথিবীকেও বুঝবে। যারা কেবল সমস্যার সমালোচনা করবে না, সমাধান তৈরির ক্ষমতাও রাখবে।

একজন ভালো মুসলিম হওয়া এবং একজন দক্ষ পেশাজীবী হওয়া পরস্পরের বিপরীত নয়। বরং ভবিষ্যতের সভ্যতা নির্মাণের জন্য এই দুই ধরনের যোগ্যতার সমন্বয়ই প্রয়োজন হতে পারে।

শিক্ষা হবে পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার

এ কারণে শিক্ষার প্রশ্নটি এত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়। শিক্ষা মানুষকে চিন্তা করতে শেখাবে।

একজন শিক্ষার্থীকে শুধু তথ্য মুখস্থ করানো নয়, বরং তাকে শেখাতে হবে কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়, কীভাবে প্রমাণ যাচাই করতে হয়, কীভাবে ভিন্ন মত শুনতে হয় এবং কীভাবে যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

একটি সভ্যতা তখনই জ্ঞাননির্ভর হয়ে ওঠে, যখন তার মানুষ নিজেরাই নতুন প্রশ্ন তুলতে এবং নতুন উত্তর খুঁজতে শেখে।

এই জায়গাতেই ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার জন্য জ্ঞানচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের গুরুত্ব সামনে আসে।

সামনে যে বড় কাজগুলো

প্রথম পর্বে পুরো পরিকল্পনার সব উত্তর দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞান ও চিন্তা, শিক্ষা, অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা, নেতৃত্ব, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি।

এসবকে আলাদা আলাদা বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না।

একটি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা দক্ষ মানুষ তৈরি করবে। সেই মানুষ গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টি করবে। দক্ষ নেতৃত্ব সেই জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠানে রূপ দেবে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সমাজকে স্থিতিশীল করবে। গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি মানুষের চিন্তা ও মূল্যবোধকে প্রভাবিত করবে। অর্থনীতি পুরো ব্যবস্থাকে টেকসই করার শক্তি দেবে।

অর্থাৎ সভ্যতা গড়ে ওঠে অনেকগুলো স্তম্ভের ওপর।

শেষ কথা: প্রশ্নটা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে

‘ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতা’ সিরিজের প্রথম পর্বের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই।

আমাদের প্রশ্ন শুধু হওয়া উচিত নয়,

মুসলিম সভ্যতা একসময় এত মহান ছিল কীভাবে?

শুধু এটিও নয়,

মুসলিম বিশ্ব এখন কেন পিছিয়ে আছে?

এর পাশাপাশি আমাদের আরও একটি প্রশ্ন করতে হবে:

আগামী দিনের জন্য আমরা কেমন সভ্যতা তৈরি করতে চাই?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে, বর্তমানকে নির্মোহভাবে বুঝতে হবে এবং ইসলামের স্থায়ী নীতিগুলোকে নতুন সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

পুনর্জাগরণ তাই শুধু আবেগের বিষয় নয়। এটি জ্ঞান, চরিত্র, শিক্ষা, নেতৃত্ব, প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়।

অতীত আমাদের গর্ব দিতে পারে। বর্তমান আমাদের সতর্ক করতে পারে।

কিন্তু ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে আমাদেরই।

আর এই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রথম ধাপ হয়তো কোনো নতুন রাষ্ট্র বা বিশাল প্রতিষ্ঠান দিয়ে নয়, শুরু হবে একজন মানুষের পরিবর্তন দিয়ে। তারপর সেই মানুষ আরেকজনকে তৈরি করবে। একের পর এক মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও প্রজন্মের মধ্য দিয়ে সেই পরিবর্তন একদিন একটি নতুন সভ্যতার রূপ নিতে পারে।

এটাই ‘ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতা’ ভাবনার প্রাথমিক আহ্বান।

এই টপিকের অন্যান্য প্রবন্ধ

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১২

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১২

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১১

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১১

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১০

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ১০

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৯

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৯

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৮

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৮

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৭

ড. তারেক আল-সুওয়াইদানের ভবিষ্যৎ ইসলামি সভ্যতার ভাবনা | পর্ব ০৭

© ২০২১ মিম্বার
প্রচার করো, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়

No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ

© 2020 মিম্বার