মিম্বার
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
মিম্বার
মূলপাতা অন্যান্য বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন গবেষণার দৈন্যদশা

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

টপিক: বাংলাদেশ, সমসাময়িক, সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
Share on FacebookShare on TwitterShare on WhatsAppShare on TelegramSend Email

বৈপরীত্য ও সংকটের সূচনা

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সামাজিক বিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি ও আইন, এই তিনটি ক্ষেত্র এমন এক বিস্তৃত একাডেমিক পরিসর গড়ে তুলেছে, যা দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও আইন, এসব বিভাগ ছাড়া বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনা করা কঠিন। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বিষয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছে, শত শত শিক্ষক পাঠদান ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন, এবং ক্রমাগত নতুন জ্ঞান উৎপাদিত হচ্ছে।

তবুও এই বিস্তৃত একাডেমিক বাস্তবতার মধ্যে একটি তীব্র বৈপরীত্য বিদ্যমান। এত বড় একটি জ্ঞানভিত্তিক কমিউনিটি থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক বিজ্ঞান, পলিসি ও আইন গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত, স্থায়ী ও প্রভাবশালী দেশীয় জার্নালের উপস্থিতি কার্যত শূন্যের কোঠায়। যেখানে জ্ঞান উৎপাদনের পরিসর সবচেয়ে বিস্তৃত, সেখানেই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও কাঠামোগত সমর্থন সবচেয়ে দুর্বল।

এই বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, বাংলাদেশের গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা গত এক দশকে দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০২৫ সালেই স্কোপাস (Scopus) ইনডেক্সড প্রকাশনা ১৮ হাজার অতিক্রম করেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি মূলত পরিমাণগত, গুণগত উৎকর্ষ বা ক্ষেত্রভিত্তিক (বিশেষত সামাজিক বিজ্ঞান, জননীতি ও আইন) অগ্রগতি সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। কারণ এই বিষয়গুলোতে বাংলাদেশে একটিও স্কোপাস (Scopus) কিংবা সোশ্যাল সায়েন্স সাইটেশন ইনডেক্স (SSCI Index) জার্নাল নেই।

গবেষণা কাঠামোর বাস্তব চিত্র 

বাংলাদেশের সামাজিক বিজ্ঞান, জননীতি ও আইন গবেষণার বর্তমান কাঠামো বিশ্লেষণ করলে একটি মৌলিক বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়, গবেষণার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও তার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব প্রায় অনুপস্থিত। দেশীয় জার্নাল ব্যবস্থার দিকে তাকালে এই সংকট সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশ জার্নাল অনলাইন (BanglaJOL)-এ শতাধিক জার্নাল তালিকাভুক্ত থাকলেও, বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ জার্নাল অনিয়মিত বা কার্যত নিষ্ক্রিয়। সক্রিয় জার্নালগুলোর মধ্যেও নিয়মিত প্রকাশনা, শক্তিশালী পিয়ার রিভিউ (peer review) এবং বহির্বিশ্বের গবেষকদের আর্টিকেল এখানে প্রায় শূন্যের কোটায়। ফলে এই জার্নালগুলো ধারাবাহিকভাবে সাইটেশন (citation) তৈরি করতে পারে না এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

এই দুর্বলতা আন্তর্জাতিক ইনডেক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাত্র ১৭টি জার্নাল Scopus-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল; সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে ছিল মাত্র একটি, আর আইন বা পাবলিক পলিসি বিষয়ে ছিল শূন্য। পরবর্তীতে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির Journal of Law and Policy (UAPJLP) (২০২২-২০২৪) এবং BiLD Law Journal (২০২০-২০২২) সাময়িকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেও, উভয়ই এখন discontinued। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি জার্নাল (Bangladesh Journal of Multidisciplinary Scientific Research) Scopus-এ অন্তর্ভুক্ত হলেও, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি বা আইন বিষয়ে একটি স্থায়ী, বিশেষায়িত এবং ধারাবাহিকভাবে indexed জার্নালও নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, Web of Science-এর SSCI তালিকায় এই ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশের উপস্থিতি কার্যত শূন্য।

SCImago (SJR) ডাটাবেজ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অধিকাংশ সামাজিক বিজ্ঞান জার্নালের H-index-৫ এর নিচে, যা আন্তর্জাতিক পরিমাপে অত্যন্ত নিম্ন প্রভাব নির্দেশ করে। একই সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের একাধিক জার্নাল Q2-Q3 পর্যায়ে অবস্থান করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এতে একটি “citation trap” তৈরি হয়েছে। নিম্নমানের কারণে স্থানীয় জার্নালগুলো সোশ্যাল সায়েন্স জার্নালগুলো citation পায় না; আর citation না থাকায় সেগুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় না। ফলস্বরূপ দক্ষ গবেষকরা সচেতনভাবে দেশীয় জার্নাল এড়িয়ে বিদেশি উচ্চ-প্রভাবশালী জার্নালে প্রকাশনা বেছে নিচ্ছেন।

কেন SSCI/Scopus-এ অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য

গবেষণার ক্ষেত্রে SSCI (Social Sciences Citation Index) এবং Scopus-এ অন্তর্ভুক্তি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; বরং এটি বৈশ্বিক জ্ঞানব্যবস্থায় প্রবেশের প্রধান দরজা। এই ইনডেক্সগুলো গবেষণার মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রভাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কার্যত “গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড” হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রথমত, এই ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্তি একটি কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার প্রতিফলন। SSCI বা Scopus-এ তালিকাভুক্ত জার্নালগুলো সাধারণত double-blind peer review, নিয়মিত প্রকাশনা, এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদনা কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এসব জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা কেবল একটি একাডেমিক লেখা নয়; এটি একটি যাচাইকৃত ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য জ্ঞান উৎপাদনের অংশ।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও citation-এর প্রশ্নে এই ইনডেক্সগুলোর ভূমিকা নির্ধারক। কোনো গবেষণা SSCI বা Scopus-এ অন্তর্ভুক্ত হলে তা বিশ্বব্যাপী গবেষকদের কাছে সহজলভ্য হয় এবং পরবর্তী গবেষণায় উদ্ধৃত হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন, এই ক্ষেত্রগুলোতে policy influence এবং legal reasoning অনেকাংশে পূর্ববর্তী গবেষণার উপর নির্ভরশীল। ফলে citation কেবল একাডেমিক মর্যাদা নয়; এটি নীতি ও আইনগত প্রভাবেরও সূচক।

তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এই ইনডেক্সগুলো একটি কেন্দ্রীয় মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। QS, Times Higher Education এবং অন্যান্য বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং পদ্ধতি মূলত গবেষণা প্রকাশনা, citation impact এবং indexed journal-এ উপস্থিতির উপর নির্ভর করে। ফলে কোনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি SSCI/Scopus-এ দৃশ্যমান না হয়, তবে তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

চতুর্থত, একাডেমিক ক্যারিয়ার ও প্রণোদনার কাঠামো এই ইনডেক্সগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিক্ষক পদোন্নতি, গবেষণা অনুদান এবং পেশাগত স্বীকৃতি নির্ধারণে Scopus বা SSCI-indexed প্রকাশনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে গবেষকদের জন্য এই ইনডেক্সে প্রকাশনা একটি প্রয়োজনীয় শর্তে পরিণত হয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ প্রায় নেই।

কাঠামোগত সংকটের গভীরতা

বাংলাদেশের সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন গবেষণার বর্তমান সংকটকে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করলে এর প্রকৃত গভীরতা ধরা পড়ে না। এটি আসলে একাধিক স্তরে কার্যকর একটি কাঠামোগত বিপর্যয়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নীতিগত বৈপরীত্য, জ্ঞানগত নির্ভরশীলতা এবং অর্থনৈতিক শোষণের একটি জটিল সমন্বয়।

প্রথমত, এখানে একটি স্পষ্ট নীতিগত প্যারাডক্স বিদ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো (বিশেষত ইউজিসি) শিক্ষক পদোন্নতি ও একাডেমিক অগ্রগতির জন্য Scopus বা SSCI-indexed জার্নালে প্রকাশনাকে প্রায় বাধ্যতামূলক করে তুলেছে। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্র নিজস্বভাবে এমন কোনো মানসম্পন্ন জার্নাল তৈরি করতে পারেনি, যেখানে এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব। ফলে গবেষকরা এক ধরনের কাঠামোগত “dead end”-এ আটকে পড়েছেন, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রকাশনা একমাত্র পথ, কিন্তু সেই পথটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দ্বিতীয়ত, এই নির্ভরশীলতা একটি গভীরতর বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যার জন্ম দেয়, যাকে “বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদ” বলা যেতে পারে। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা, আইন কাঠামো বা নীতিনির্ধারণ নিয়ে করা গবেষণা প্রধানত প্রকাশিত হচ্ছে বিদেশি বাণিজ্যিক প্রকাশকদের প্ল্যাটফর্মে, যেমন Elsevier, Springer, Sage, Wiley বা Routledge-এ। এর ফলে জ্ঞান উৎপাদন দেশীয় হলেও, এর প্রচার, মালিকানা এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বহুলাংশে বহির্বিশ্বের হাতে চলে যাচ্ছে। আরও বৈপরীত্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা আবার দেশীয় পাঠকদের জন্য সহজলভ্য নয়; বরং তা পড়তে হলে উচ্চমূল্যের সাবস্ক্রিপশন বা অর্থ ব্যয় করতে হয়।

তৃতীয়ত, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক মাত্রা, যা “knowledge tax” হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার জন্য গবেষকদের প্রায়ই উচ্চ Article Processing Charge (APC) প্রদান করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে $১,০০০ থেকে $৩,০০০ বা তারও বেশি। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় একই সীমার মধ্যে, এই ব্যয় ব্যক্তিগতভাবে বহন করা গবেষকদের জন্য একটি গুরুতর আর্থিক চাপ। এর ফলে গবেষণা প্রকাশনা কার্যত একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, যা দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বের করে নিয়ে যাচ্ছে, অথচ এর বিনিময়ে রাষ্ট্র কোনো দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারছে না।

চতুর্থত, এই কাঠামোগত চাপ গবেষণার বিষয়বস্তু ও দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক জার্নালের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের জন্য গবেষকরা অনেক সময় স্থানীয় বাস্তবতা থেকে সরে গিয়ে এমন বিষয় নির্বাচন করতে বাধ্য হন, যা বৈশ্বিক ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ফলে বাংলাদেশের প্রান্তিক, জটিল ও প্রেক্ষাপট-নির্ভর সামাজিক ও আইনি সমস্যাগুলো গবেষণার মূলধারা থেকে ক্রমশ বাইরে চলে যাচ্ছে।

ফলে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হয়েছে, দেশীয় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে, আর দেশীয় সমস্যাগুলো গবেষণার অভাবে অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে।

কাঠামোগত সংকটের অন্তর্নিহিত যুক্তি

প্রথমত, একটি স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এখানে কাজ করছে, যা governance failure হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। গবেষণা নীতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং জার্নাল ব্যবস্থাপনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ইউজিসি একদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রকাশনা বাধ্যতামূলক করছে, কিন্তু অন্যদিকে সেই মান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে নীতিগত নির্দেশনা ও বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে একটি গভীর বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, জ্ঞান উৎপাদনের রাজনৈতিক অর্থনীতি (political economy of knowledge) এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক একাডেমিক প্রকাশনা ব্যবস্থা মূলত উত্তর-আধিপত্যবাদী (Global North dominated), যেখানে জ্ঞানকে একটি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কাঠামোর মধ্যে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো মূলত “knowledge producer” হলেও “knowledge controller” নয়। ফলে তারা জ্ঞান তৈরি করলেও, এর বিতরণ, মূল্য নির্ধারণ এবং ব্যবহারিক প্রভাবের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত।

তৃতীয়ত, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা (language barrier) একটি নীরব কিন্তু গভীর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক জার্নাল ইংরেজিভিত্তিক হওয়ায় গবেষকদের নিজেদের কাজ একটি ভিন্ন ভাষায় উপস্থাপন করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটের সূক্ষ্মতা (contextual nuance) হারিয়ে ফেলে। বিশেষত আইন ও জননীতি গবেষণায়, যেখানে স্থানীয় বাস্তবতা ও ভাষাগত সূক্ষ্মতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই অনুবাদ প্রক্রিয়া জ্ঞানের বিকৃতি বা সরলীকরণের ঝুঁকি তৈরি করে।

চতুর্থত, এই কাঠামো একটি দ্বৈত মানবসম্পদ সংকট তৈরি করেছে, যা “brain drain” এবং “brain waste” হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। একদিকে, দক্ষ গবেষকরা উন্নত গবেষণা পরিবেশ ও সুযোগের সন্ধানে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, যারা দেশে অবস্থান করছেন, তারা পর্যাপ্ত অবকাঠামো, তহবিল ও প্রকাশনা সুযোগের অভাবে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না। ফলে দেশের সামগ্রিক জ্ঞান উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পঞ্চমত, গবেষণা প্রণোদনা কাঠামোর বিকৃতি (incentive distortion) এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। বর্তমান ব্যবস্থায় গবেষণার গুণগত মানের চেয়ে প্রকাশনার সংখ্যা এবং indexation অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে গবেষকরা দ্রুত প্রকাশনার জন্য নিম্নমানের বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নির্বাচন করতে বাধ্য হচ্ছেন, এবং কখনও কখনও predatory journal-এর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গবেষণা একটি জ্ঞান উৎপাদনের প্রক্রিয়া না হয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই সমস্ত উপাদান একত্রে একটি জটিল কাঠামোগত বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে সামাজিক বিজ্ঞান, জননীতি ও আইন গবেষণা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামো, ভাষাগত বাধা এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত অসামঞ্জস্যের কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত: কাঠামোগত ভাঙনের কার্যকর কারণসমূহ

বাংলাদেশের সামাজিক বিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি ও আইন গবেষণার সংকটকে কার্যকরভাবে বোঝার জন্য এর প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙনের নির্দিষ্ট বিন্দুগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এই ব্যর্থতা কোনো একক কারণে সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি একাধিক অপারেশনাল দুর্বলতার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।

প্রথমত, কারিগরি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ঘাটতি একটি মৌলিক প্রতিবন্ধকতা। আন্তর্জাতিক মানের একটি জার্নাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন Digital Object Identifier (DOI), CrossRef membership, পেশাদার অনলাইন submission ও editorial management system (যেমন OJS), এবং plagiarism detection ব্যবস্থা। বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক জার্নাল এখনও এই মৌলিক উপাদানগুলো ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে জার্নালগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক পর্যায়েই আটকে যায়।

দ্বিতীয়ত, সম্পাদনা ব্যবস্থার অপেশাদারিত্ব একটি গুরুতর সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে জার্নাল সম্পাদনার দায়িত্ব পূর্ণ-সময়ের পেশা হিসেবে বিবেচিত না হয়ে অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে editorial board সক্রিয় থাকে না, peer review প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, এবং প্রকাশনার সময়সূচি অনিয়মিত হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক ইনডেক্সিংয়ের ক্ষেত্রে “regularity” এবং “editorial consistency” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বাংলাদেশের অধিকাংশ জার্নাল বজায় রাখতে ব্যর্থ।

তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার সংকট (institutional neglect) এই ব্যর্থতার প্রধান উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট বরাদ্দে গবেষণা ও জার্নাল উন্নয়ন প্রায়শই অগ্রাধিকার পায় না। গবেষণা তহবিল সীমিত, এবং জার্নাল ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা পেশাদার টিম বা কাঠামো খুব কম ক্ষেত্রেই গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে জার্নালগুলো ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে, প্রতিষ্ঠাননির্ভর নয়।

চতুর্থত, মানবসম্পদ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য প্রয়োজন উন্নত গবেষণা পদ্ধতি, একাডেমিক লেখা এবং রিভিউ দক্ষতা। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ বা mentoring কাঠামো নেই। বিশেষত PhD-পর্যায়ের গবেষণা প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধান এখনও সীমিত ও অসম।

পঞ্চমত, জার্নাল মূল্যায়ন ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব একটি কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এখনও কোনো কার্যকর জাতীয় মানদণ্ড বা র‍্যাংকিং সিস্টেম নেই, যা দেশীয় জার্নালগুলোর গুণগত মান মূল্যায়ন করে এবং উন্নয়নের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। ফলে জার্নালগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বা মানোন্নয়নের প্রণোদনা সৃষ্টি হয় না।

সবশেষে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, এই সমস্ত দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং একে অপরকে শক্তিশালী করে। কারিগরি ঘাটতি সম্পাদনা দুর্বলতাকে বাড়ায়, সম্পাদনা দুর্বলতা citation কমায়, citation কম হওয়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে, এভাবে একটি ধারাবাহিক ব্যর্থতার চক্র তৈরি হয়।

অন্যান্য দেশের মডেল থেকে প্রাপ্ত পাঠ

এই কাঠামোগত সংকটকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য তুলনামূলক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একই ধরনের আর্থসামাজিক বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও কিছু দেশ তাদের একাডেমিক প্রকাশনা কাঠামোকে সফলভাবে রূপান্তর করতে পেরেছে।

প্রথমত, তুরস্কের DergiPark একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এটি একটি কেন্দ্রীয়, রাষ্ট্র-সমর্থিত ডিজিটাল জার্নাল প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের শত শত একাডেমিক জার্নালকে একটি একক অবকাঠামোর আওতায় এনেছে। DergiPark-এর মাধ্যমে জার্নালগুলোকে অনলাইন submission system, editorial management, peer review tracking এবং DOI integration-এর সুবিধা দেওয়া হয়। এর ফলে ছোট বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জার্নালগুলোও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্ল্যাটফর্মটি জার্নাল ব্যবস্থাপনাকে ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে সরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে।

দ্বিতীয়ত, ইন্দোনেশিয়ার SINTA (Science and Technology Index) মডেল একটি কার্যকর জাতীয় মূল্যায়ন কাঠামোর উদাহরণ। SINTA দেশের জার্নাল এবং গবেষকদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাদের মান অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস (ranking) প্রদান করে। এর ফলে দেশীয় জার্নালগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়, এবং মানোন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রণোদনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে সরকার গবেষণা অনুদান এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে এই মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে, যা নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করে।

তৃতীয়ত, ভারতের UGC CARE List একটি নীতিগত হস্তক্ষেপের উদাহরণ, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন স্বীকৃত জার্নালের একটি তালিকা তৈরি করেছে এবং শিক্ষক পদোন্নতির ক্ষেত্রে এই তালিকাকে বাধ্যতামূলক করেছে। যদিও এই মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে, রাষ্ট্র যদি সক্রিয়ভাবে জার্নাল মাননিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতির প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাহলে একটি জাতীয় গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব।

এই উদাহরণগুলো একটি সাধারণ সত্য তুলে ধরে, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া বা ভারত, এই দেশগুলোও উন্নয়নশীল বাস্তবতায় অবস্থান করেও একটি সংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জার্নাল ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে নিতে পেরেছে। আর সেখানে বাংলাদেশ?

উত্তরণের পথ ও সুপারিশ: একটি সমন্বিত জাতীয় কাঠামো

প্রথমত, একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল জার্নাল প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। তুরস্কের DergiPark-এর আদলে একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জার্নালকে একীভূত করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মে DOI integration, online submission system, peer review tracking এবং editorial workflow নিশ্চিত করা হলে জার্নাল ব্যবস্থাপনা পেশাদার ও মানসম্মত হবে।

দ্বিতীয়ত, একটি জাতীয় জার্নাল ইনডেক্সিং ও মূল্যায়ন কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন। ইন্দোনেশিয়ার SINTA বা ভারতের UGC CARE-এর মতো একটি সিস্টেম চালু করে দেশীয় জার্নালগুলোর মান অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে জার্নালগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শিক্ষক পদোন্নতি ও গবেষণা অনুদানের সঙ্গে এই মূল্যায়ন যুক্ত করলে নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক ইনডেক্সিং অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ জরুরি। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি “National Journal Development Program” গ্রহণ করতে পারে, যার লক্ষ্য হবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অন্তত ৫-১০টি সামাজিক বিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি ও আইনভিত্তিক জার্নালকে Scopus বা SSCI-তে অন্তর্ভুক্ত করা। এর জন্য বিশেষ বাজেট, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক দল প্রয়োজন।

চতুর্থত, গবেষণা প্রকাশনার অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা আবশ্যক। আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার জন্য প্রয়োজনীয় Article Processing Charge (APC) রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বহন করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় জার্নালগুলোকে স্বল্প ব্যয় বা বিনামূল্যে প্রকাশনার সুযোগ দিতে হবে, যাতে গবেষকরা আর্থিক চাপে না পড়ে মানসম্মত কাজ করতে পারেন।

পঞ্চমত, মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণা পদ্ধতি, একাডেমিক লেখা, peer review দক্ষতা এবং জার্নাল সম্পাদনা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে PhD পর্যায়ের গবেষণা ও তত্ত্বাবধানকে শক্তিশালী করা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ষষ্ঠত, জার্নাল সম্পাদনা ও ব্যবস্থাপনাকে পেশাদারীকরণ করা জরুরি। সম্পাদকদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতা, পূর্ণ-সময়ের দায়িত্ব এবং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হলে জার্নালগুলো ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টেকসই হতে পারবে।

সবশেষে, এই সমস্ত উদ্যোগের মূল ভিত্তি হতে হবে একটি নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কেননা বাংলাদেশের গবেষকরাই বিদেশের নামী-দামী জার্নালের এডিটর ও রিভিউয়ার হিসেবে কাজ করছে। দেশে তাদের জন্য একই ধরনের কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে, ব্রেইন ড্রেনের খপ্পর থেকে বাঁচা যাবে।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে

বর্তমান প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের সামাজিক বিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি ও আইন গবেষণা একটি গভীরতর নির্ভরশীলতার চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়বে, যার প্রভাব একাডেমিক পরিসর ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও আইনগত কাঠামোতেও প্রতিফলিত হবে।

প্রথমত, একটি “knowledge dependency” বা জ্ঞানগত নির্ভরশীলতা তৈরি হবে। দেশীয় গবেষণা কাঠামো শক্তিশালী না হলে, নীতিনির্ধারণ ও আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশ ক্রমশ বিদেশি গবেষণা, তত্ত্ব ও বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এর ফলে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয়ত, একটি “policy vacuum” তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান ও জননীতি গবেষণা যদি দেশীয় সমস্যাগুলোকে পর্যাপ্তভাবে বিশ্লেষণ না করে, তাহলে নীতিনির্ধারকদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক (evidence-based) সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অভিজ্ঞতানির্ভর বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াভিত্তিক হয়ে উঠতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর বা ক্ষতিকর হতে পারে।

তৃতীয়ত, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রান্তিকীকরণ (intellectual marginalization) একটি বাস্তব ঝুঁকিতে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিক জ্ঞানব্যবস্থায় দেশীয় গবেষণার উপস্থিতি না থাকলে, বাংলাদেশের সামাজিক ও আইনি বাস্তবতা বৈশ্বিক আলোচনায় স্থান পাবে না। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্ঞান উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় দেশ একটি প্রান্তিক অবস্থানে থেকে যাবে।

চতুর্থত, মানবসম্পদের অপচয় আরও তীব্র হবে। দক্ষ গবেষকরা বিদেশমুখী হয়ে পড়বেন (brain drain), এবং যারা দেশে থাকবেন তারা পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে তাদের সক্ষমতা পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না (brain waste)। এতে দীর্ঘমেয়াদে একটি জ্ঞান-শূন্যতা তৈরি হবে, যা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সবশেষে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ একটি “knowledge consuming state”-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যেখানে দেশ নিজস্ব জ্ঞান উৎপাদন না করে কেবল বাইরের জ্ঞান ব্যবহার করবে। এই বাস্তবতা একটি রাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য গভীর হুমকি।

মনে রাখতে হবে, এটি কেবল একাডেমিক সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন নয়; এটি একটি জাতীয় সংকট। একটি বৃহৎ, সক্রিয় এবং সম্ভাবনাময় জ্ঞানসম্প্রদায় থাকা সত্ত্বেও, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং নীতিগত অসামঞ্জস্যের কারণে এই ক্ষেত্রটি তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারছে না।

একটি মৌলিক প্রশ্নের মাধ্যমে শেষ করছি, বাংলাদেশ কি নিজস্ব জ্ঞান উৎপাদনের সক্ষম রাষ্ট্রে পরিণত হবে, নাকি কেবল বাইরের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল একটি ভোক্তা রাষ্ট্র হয়ে থাকবে?

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই।

এই টপিকের অন্যান্য প্রবন্ধ

বিএনপির প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ: ক্ষমতার ভারসাম্য নাকি নখদন্তহীন বাঘ?

বিএনপির প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ: ক্ষমতার ভারসাম্য নাকি নখদন্তহীন বাঘ?

জুলাইয়ের স্বপ্নের অকালমৃত্যু: আবারও কি পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ?

জুলাইয়ের স্বপ্নের অকালমৃত্যু: আবারও কি পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ?

জুলাই সনদ বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

জুলাই সনদ বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়

গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়

টেকনোলজির ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম: ইসলামি দৃষ্টিকোণে করণীয়

টেকনোলজির ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম: ইসলামি দৃষ্টিকোণে করণীয়

মানুষ ফেরেশতা নাকি শয়তান

মানুষ ফেরেশতা নাকি শয়তান

© ২০২১ মিম্বার
প্রচার করো, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়

No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ

© 2020 মিম্বার