মিম্বার
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
মিম্বার
মূলপাতা সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার সমসাময়িক

জুলাইয়ের স্বপ্নের অকালমৃত্যু: আবারও কি পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ?

মু. সাইফুল ইসলাম

টপিক: সমসাময়িক, সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
Share on FacebookShare on TwitterShare on WhatsAppShare on TelegramSend Email

১.
২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই তুমুল এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই পরিবর্তন শুধু সরকার বদলের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, এসব মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড়ানোর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু এমন একটি মুহূর্ত কি সত্যিই কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়, নাকি শেষ পর্যন্ত তা কেবল ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসেই সীমাবদ্ধ থাকে?

তাই এই সময়টিকে window of opportunity বলা যায়। কারণ বহুদিন ধরে জমে থাকা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূল্যোৎপাটন, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা, সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র, গণভবনকেন্দ্রিক ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা, হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, গুম ও খুন, লুটপাটের মহোৎসব এবং আকাশসম জুলুমভিত্তিক ব্যবস্থার শিকড়সমেত উপড়ে ফেলার প্রশ্ন সর্বাগ্রে উঠে আসে। রাজপথের দাবি ছিল শুধু জালিমশাহী শাসকের পরিবর্তন নয়, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। অর্থাৎ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একক দলের হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না থেকে checks and balances এর মাধ্যমে সমাজে সাম্য, মূল্যবোধ ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে; সকল প্রকার বৈষম্যের মূলোৎপাটন ঘটবে; এবং সমাজের মূল চালিকাশক্তি নিয়ন্ত্রিত হবে জনগণের ইচ্ছা ও অনিচ্ছার ভিত্তিতে। কিন্তু এই উচ্চারণগুলো কি কেবল আন্দোলনের ভাষা, নাকি শাসনের নকশায়ও প্রতিফলিত হওয়ার কথা?

এই লক্ষ্য সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশনের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২০২৫ সালে প্রণীত হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু, বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কমিশন গঠন এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। কাগজে এই কাঠামো যতটা সুসংগঠিত, বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ইচ্ছা কি ততটাই দৃঢ়?

কিন্তু এখানেই মূল সংকট। এই সনদের কোনো বাধ্যতামূলক আইনি ভিত্তি নেই। সেই ভিত্তি সৃষ্টির উপায় ছিল গণভোট, এবং তাতে বাংলাদেশের আপামর জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়ে ৬৮.৬৯ শতাংশ ভোটে সংস্কারের পক্ষে মত দেয়। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। যে গণভোট অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংস্কারের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিল, তা সংসদে উত্থাপন ও পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকা হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে, জনগণের ম্যান্ডেট কি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য, নাকি কেবল রাজনৈতিক বৈধতার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে?

এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের সুপারিশও করা হচ্ছে। ফলে শুরুতে যে window of opportunity তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যখন এই প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দিতে অনীহা দেখায়, তখন এটি আর কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা থাকে না; এটি একটি সচেতন রাজনৈতিক অবস্থান হয়ে ওঠে। আমরা কি এই সুযোগকে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দিতে চাই, নাকি ধীরে ধীরে সেটিকেই শেষ করে দিচ্ছি? যদি নিয়ম না বদলায়, তাহলে শাসকের মুখ বদলালেও শাসনের ধরন একই থেকে যাবে। এই মুহূর্তটি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি নৈতিক ও সাংবিধানিক পরীক্ষাও।

২.
বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যর্থতা নতুন কোনো ঘটনা নয়; এটি এক পুনরাবৃত্ত প্যাটার্ন। প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বদলে ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে। ফলে প্রশ্নটি আর কেবল “সংস্কার হবে কি না” তে সীমাবদ্ধ নেই; বরং “কেন বারবার সংস্কার ব্যর্থ হয়” এই জিজ্ঞাসাই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে। যদি প্রতিবারই একই প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয় এবং একইভাবে তা বিলীন হয়ে যায়, তাহলে সমস্যাটি কি ব্যক্তির, নাকি পুরো রাজনৈতিক কাঠামোর?

এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা ঘটে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে। সে সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং বাম জোট সম্মিলিতভাবে একটি যৌথ রূপরেখা প্রণয়ন করে, যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আর বাস্তব রূপ দেয়নি। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতার বাস্তবতায় এসে তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। তাহলে কি এই ঐকমত্য কেবল আন্দোলনের ভাষা ছিল, শাসনের নয়?

১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহানের নেতৃত্বে ২৯টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। ২৫৫ জন বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীর অংশগ্রহণে প্রশাসন, অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে বিস্তারিত সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়। মেধাভিত্তিক পদোন্নতি, দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠনের মতো প্রস্তাবগুলো আজও প্রাসঙ্গিক। কিন্তু নির্বাচিত বিএনপি সরকার সেই সুপারিশগুলো গ্রহণ করেনি। কারণটি স্পষ্ট ছিল। এসব বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে যেত। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, রাষ্ট্র কি জনগণের জন্য পরিচালিত হয়, নাকি ক্ষমতা রক্ষার জন্য?

একই চিত্র পুনরাবৃত্ত হয় ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। ড. আকবর আলি খানের নেতৃত্বে গঠিত Regulatory Reforms Commission ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং নীতিগত স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫৩টি সুপারিশ প্রদান করে। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই সুপারিশগুলো কার্যত উপেক্ষিত হয়। নামমাত্র কিছু প্রস্তাব আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হলেও সামগ্রিক উদ্যোগটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তাহলে কি সংস্কার তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা ক্ষমতার সঙ্গে সংঘাতে যায় না?

এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো একত্রে বিশ্লেষণ করলে একটি কঠিন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে যখনই কোনো অন্তর্বর্তী বা অনির্বাচিত সরকার বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংস্কারের ভিত্তি নির্মাণ করেছে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারগুলো তা নিজেদের ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেছে। ফলে সংস্কারের প্রক্রিয়া ধারাবাহিকতা অর্জন করতে পারেনি; বরং বিচ্ছিন্ন ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যদি নির্বাচিত সরকারই সংস্কারের প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে গণতন্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য কোথায় দাঁড়ায়?

এই ইতিহাসের আলোকে ২০২৪-পরবর্তী পরিস্থিতিকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াটিও একই ধরনের এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। যদি অতীতের মতো রাজনৈতিক স্বার্থই আবার প্রাধান্য পায়, তবে জুলাই সনদও পূর্ববর্তী কমিশনগুলোর রিপোর্টের মতোই ফাইলবন্দী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিহাস যদি বারবার একই সতর্কবার্তা দেয়, আমরা কি এবারও তা উপেক্ষা করব?

৩.
১৩তম সংসদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ। এর মধ্যে প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরও ১৬টি অধ্যাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনে পরিণত না করে পরে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি কেবল প্রক্রিয়াগত আইন প্রণয়নের প্রশ্ন নয়; এটি নির্ধারণ করছে ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তব রূপ পাবে, নাকি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যদি এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে, তাহলে কি পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?

সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাতটি পড়ছে বিচার বিভাগের ওপর। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাত থেকে সরিয়ে বিচার বিভাগকে কার্যকর স্বাধীনতা দেওয়ার একটি মৌলিক পদক্ষেপ ছিল। একইভাবে সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি নিয়োগ কাউন্সিল অধ্যাদেশ বিচারক নিয়োগকে নির্বাহী প্রভাবের বাইরে এনে একটি স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়তে চেয়েছিল। এই দুটি অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে সংবিধানে ঘোষিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাস্তবে আর কতটা অর্থবহ থাকবে, সেই প্রশ্ন এড়ানো যায় না। কাগজে স্বাধীনতা থাকলেও নিয়োগ ও প্রশাসন যদি নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে সেই স্বাধীনতা কি আদৌ স্বাধীনতা?

সবচেয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো, যে গুমের শিকার হওয়ার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি ছিল, সেই শক্তির নেতৃত্বাধীন সরকারই এখন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের পথে। গত দেড় দশকে শত শত মানুষ গুম হয়েছে, অনেককে গোপন আটক কেন্দ্রে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে, যেগুলো “আয়নাঘর” নামে পরিচিত। এই অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে বার্তাটি স্পষ্ট। গুমের বিচার অনিশ্চিতই থাকবে। তখন প্রশ্নটি এড়ানো যায় না। গুম, গোপন আটক, আর সেই অন্ধকার বাস্তবতা ফিরে আসবে না, তা কে নিশ্চিত করে বলতে পারে?

একইভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ কমিশনকে স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর ওপর কার্যকর নজরদারির পথ খুলে দিতে পারত। এটি ঝুলে থাকলে মানবাধিকার সুরক্ষা আবারও কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। জবাবদিহিহীন ক্ষমতা কি কখনও নিজেকে সীমাবদ্ধ করে?

দুর্নীতি দমন ক্ষেত্রেও একই চিত্র। দুদক সংশোধন অধ্যাদেশ উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল। এটি বাস্তবায়িত না হলে ব্যাংক লুট, অর্থপাচার এবং প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি আগের মতোই চলবে। পাশাপাশি গণভোট এবং অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোও ঝুলে আছে, যেগুলো জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির জন্য জরুরি ছিল। তাহলে কি এই স্থবিরতা কেবল দেরি, নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন “পরে বিবেচনা” করার যুক্তি। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, পরে মানে অনেক সময় আর কখনও নয়। আইন যত দেরি হয়, ততই তা অগ্রাধিকার হারায়। একবার কোনো সংস্কার থেমে গেলে সেটিকে আবার চালু করা খুব কঠিন। তাহলে এই বিলম্ব কি সময়ক্ষেপণ, নাকি সংস্কারকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ করার প্রক্রিয়া?

ফলে বিষয়টি আর কয়েকটি অধ্যাদেশ টিকবে কি না, সেই সীমায় নেই। এখানে নির্ধারিত হচ্ছে বিচার বিভাগ কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার আদৌ হবে কি না, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারবে। অন্যভাবে বললে, এটি সেই মুহূর্ত যেখানে ২০২৪-পরবর্তী পরিবর্তনের ভিত্তি টিকে থাকবে, নাকি ভেঙে পড়বে। জুলাইয়ের রক্ত যে সুযোগ তৈরি করেছিল, সেটি কি এভাবেই হারিয়ে যাবে?

৪.
বর্তমান অস্বস্তিকর অবস্থার একটি বড় কারণ সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নকে ঘিরে তৈরি জটিলতা। সরকারের যুক্তি, অন্তর্বর্তী সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়; সেগুলোকে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে আইনে রূপ দিতে হবে। যুক্তিটি আংশিকভাবে সঠিক। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণের কৌশলে পরিণত হচ্ছে। আইনি বৈধতার প্রশ্ন কি সত্যিই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া, নাকি পরিবর্তন বিলম্বিত করার উপায়?

সমস্যার গভীর শিকড় সংবিধানের কাঠামোর ভেতরেই রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। ফলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আনুষ্ঠানিক হয়ে পড়ে, আর নির্বাহী ক্ষমতা কার্যত প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভবন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাকে সীমিত করে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন বা অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাহলে ক্ষমতার এই কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া সংস্কার কতটা সম্ভব?

একইভাবে অনুচ্ছেদ ৭০ সংসদের কার্যকর স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন হারানোর ঝুঁকি থাকে। ফলে সংসদ সদস্যরা নীতিগত অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে দলীয় নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য হন। এতে সংসদ একটি স্বাধীন আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান না হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুমোদনের যন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাহলে এই সংসদ কি সত্যিই সংস্কারের চালিকাশক্তি হতে পারে?

এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশ বনাম বিল বিতর্কটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। একদিকে সংসদকে বৈধতার একমাত্র উৎস বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বাস্তবতা হলো, যদি সংসদ সেই সংস্কারগুলোকে অগ্রাধিকার না দেয়, তাহলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরিবর্তন কখনোই পূর্ণতা পাবে না। ফলে আইনি বৈধতার যুক্তি অনেক সময় বাস্তব পরিবর্তন ঠেকানোর হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।

গণভোটের প্রশ্ন এই দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে। ইতিমধ্যে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। তবুও সেই জনমতকে কার্যকর করার পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার অজুহাত সামনে আনা হচ্ছে। তাহলে প্রশ্নটি আর কেবল পদ্ধতির নয়; এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন।

সব মিলিয়ে একটি স্পষ্ট ফাঁক দেখা যাচ্ছে আইনের ভাষা এবং বাস্তবতার মধ্যে। প্রশ্নটি তাই শুধু কীভাবে পরিবর্তন আনা হবে নয়, বরং পরিবর্তন আনার ইচ্ছা আদৌ আছে কি না। সংবিধান নিজেই বলছে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। যদি সেই জনগণের রায়ই উপেক্ষিত হয়, তাহলে আইনি বৈধতার দাবি কতটা অর্থবহ থাকে?

৫.
রাষ্ট্র সংস্কারের বর্তমান স্থবিরতার কেন্দ্রে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অনাস্থা এবং ক্ষমতার হিসাব। জুলাই জাতীয় সনদে নীতিগত ঐকমত্য থাকলেও বাস্তবায়নের প্রশ্নে তা ভেঙে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার আর নীতির বিষয় থাকছে না; এটি ক্ষমতার অঙ্কে পরিণত হয়েছে।

১৩তম সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপি এখন প্রধান সিদ্ধান্তগ্রহণকারী শক্তি। তাদের অবস্থান হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বা জুলাই সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়; সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদই একমাত্র বৈধ আইনপ্রণেতা। এই অবস্থান তাদেরকে সংস্কার প্রশ্নে ধীর, ধাপে ধাপে এগোনোর সুযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত করার মতো প্রস্তাবের ক্ষেত্রে। কিন্তু এই সতর্কতা কি বাস্তব বিবেচনা, নাকি ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতা?

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের যুক্তি সরল: অতীতে নির্বাচনের পর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বারবার ভেঙে গেছে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে শুরু হওয়া পরিবর্তনগুলোকে দ্রুত আইনি সুরক্ষা না দিলে সেগুলো হারিয়ে যাবে। ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করার বিরোধিতা এই আশঙ্কাকেই প্রতিফলিত করে।

এনসিপি আরও এক ধাপ এগিয়ে বিদ্যমান কাঠামোকে অপ্রতুল বলে চিহ্নিত করে নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থার কথা বলছে। তবে সংসদে সীমিত উপস্থিতির কারণে তাদের প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেললেও বাস্তবায়নের শক্তি অর্জন করেনি। ফলে এই ধারণা এখনো চাপ সৃষ্টি করতে পারছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারছে না।

এই ভিন্ন অবস্থানগুলো একটি স্পষ্ট দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। একদিকে দ্রুত পরিবর্তনের দাবি, অন্যদিকে সংসদকেন্দ্রিক ধীর প্রক্রিয়া। কিন্তু এই টানাপোড়েনে যে বিষয়টি ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে, তা হলো জনআকাঙ্ক্ষা।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা ছিল ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করছে রাজনৈতিক হিসাব। ফলে প্রশ্নটি অনিবার্য হয়ে ওঠে: এই পরিবর্তন কি সত্যিই ব্যবস্থাকে বদলানোর জন্য, নাকি কেবল ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস?

এই প্রশ্নের উত্তরই ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নির্ধারণ করবে। যদি জনগণ মনে করে তাদের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হচ্ছে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা ক্ষয় হবে। আর আস্থার এই ক্ষয়ই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

৬.
রাষ্ট্র সংস্কারের এই স্থবিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশ আবারও সেই পুরোনো চক্রে ফিরবে, যেখানে সরকার বদলায়, কিন্তু শাসনের ধরন বদলায় না। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, শেষ পর্যন্ত একই কেন্দ্রীভূত ও জবাবদিহিহীন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করবে। নির্বাচন হবে, সরকার বদলাবে, কিন্তু ক্ষমতার ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকবে।

এর প্রথম আঘাত পড়বে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার সুরক্ষায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যদি বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত না হয়, নিয়োগ ও প্রশাসন যদি নির্বাহী প্রভাবমুক্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গুম প্রতিরোধ আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ ঝুলে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আবারও সেই পুরোনো প্রশ্নের মুখে পড়বে: রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার কি আদৌ সম্ভব?

দ্বিতীয় আঘাত অর্থনীতি ও সুশাসনে। দুদক শক্তিশালী না হলে, আর্থিক খাতে জবাবদিহি না বাড়লে এবং প্রশাসনিক সংস্কার থেমে গেলে ব্যাংক লুট, অর্থপাচার এবং প্রভাবনির্ভর অর্থনীতি আগের মতোই চলবে। এতে শুধু অর্থনীতি নয়, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষয় হবে।

কিন্তু সবচেয়ে গভীর ক্ষতটি রাজনৈতিক। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান মানুষকে নতুন আশা দিয়েছিল, রাষ্ট্রের চরিত্র বদলানোর আশা। সেই আশা যদি অপূর্ণ থাকে, তাহলে বিশ্বাস জন্মাবে যে আন্দোলন, ভোট, ত্যাগ, এমনকি রক্তও কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে না। গণতন্ত্রের জন্য এর চেয়ে বিপজ্জনক বার্তা আর কিছু হতে পারে না।

এই হতাশার বাস্তব ফলও আছে। যখন মানুষ দেখে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পথ ফল দিচ্ছে না, তখন ক্ষোভ জমে। সেই ক্ষোভই একসময় অস্থিরতা, সংঘাত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক শক্তির হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেয়। ইতিহাস বারবার এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

তাই রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যর্থতা শুধু নীতিগত ব্যর্থতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ সংকটের বীজ। আজকের বিলম্বিত সিদ্ধান্তগুলো কাল বিচারব্যবস্থা, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় একসঙ্গে আঘাত হানবে। প্রশ্নটি তাই স্পষ্ট: বাংলাদেশ কি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে রূপ নেবে, নাকি আবারও একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে?

৭.
বাংলাদেশের সামনে এখন একটি স্পষ্ট দ্বিমুখী পথ। একদিকে অতীতের পুনরাবৃত্তি, যেখানে সংস্কারের সুযোগ বারবার রাজনৈতিক হিসাবের ভেতরে হারিয়ে যায়। অন্যদিকে একটি বাস্তব সুযোগ, ২০২৪-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার। প্রশ্ন হলো, এই সুযোগটি কি কাজে লাগানো হবে, নাকি আবারও হারিয়ে যাবে?

প্রথমত, ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো দ্রুত সংসদে এনে পাস করতে হবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না হলে সংস্কারের ভিত্তিই দাঁড়াবে না।

দ্বিতীয়ত, সংবিধানের কিছু মৌলিক ধারা নিয়ে বাস্তব আলোচনা জরুরি। অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) ও ৭০ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কাঠামো তৈরি করেছে, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভবন ভাঙা ছাড়া ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তৃতীয়ত, জুলাই জাতীয় সনদকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে আইনি কাঠামোয় আনতে হবে। এটি কোনো দলের ইশতেহার নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির প্রশ্নে ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।

চতুর্থত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম আস্থা পুনর্গঠন জরুরি। সংস্কারকে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবে দেখা হলে তা টিকবে না। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ধারাবাহিক চাপ ছাড়া বড় কোনো সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল নীতির নয়; এটি সদিচ্ছার। ২০২৪ সালের আন্দোলন একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের। আজ যদি এই প্রক্রিয়া থেমে যায়, তাহলে আগামীতে একই প্রশ্ন ফিরবে, কিন্তু তার মূল্য আরও বেশি হবে।

সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। বাংলাদেশ কি এই সুযোগে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে, নাকি আবারও সেই চক্রে ফিরবে, যেখানে সরকার বদলায়, কিন্তু কিছুই বদলায় না?

এই টপিকের অন্যান্য প্রবন্ধ

জুলাই সনদ বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

জুলাই সনদ বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়

গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়

টেকনোলজির ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম: ইসলামি দৃষ্টিকোণে করণীয়

টেকনোলজির ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম: ইসলামি দৃষ্টিকোণে করণীয়

মানুষ ফেরেশতা নাকি শয়তান

মানুষ ফেরেশতা নাকি শয়তান

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান

ইসলামী নারীবাদ: উম্মে সালামা (রা.) প্রসঙ্গ ও কিছু কথা

ইসলামী নারীবাদ: উম্মে সালামা (রা.) প্রসঙ্গ ও কিছু কথা

© ২০২১ মিম্বার
প্রচার করো, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়

No Result
View All Result
  • মূল পাতা
  • বিষয়শ্রেণী
    • বেসিক ইসলাম
      • আক্বিদা
      • নামাজ
      • রোজা
      • হজ্জ
      • যাকাত
      • পর্দা
      • জিহাদ
      • আখিরাত
      • সুন্নাত
    • বেসিক ইলম
      • উলুমুল কোরআন
      • উলুমুল হাদিস
      • সিরাতে রাসুল
      • ইসলামি শরীয়াহ
      • ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
      • তাযকিয়াতুন নাফস
      • ইসলাম ও অর্থনীতি
      • ইসলাম ও রাজনীতি
      • ইসলাম ও সমাজনীতি
    • জীবনী
      • নবীদের জীবনী
      • সাহাবায়ে কেরামের জীবনী
      • ইসলামি মনীষীদের জীবনী
      • কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী
    • সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকার
      • যুব সমস্যা
      • প্যারেন্টিং
      • সময় ব্যবস্থাপনা
      • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
      • ধর্ষণ
      • সুদ
      • সংশয় নিরসন
      • মাদকাসক্তি
      • পর্নোগ্রাফি
      • সমসাময়িক
    • ইতিহাস-ঐতিহ্য
      • বাংলার ইতিহাস
      • উপমহাদেশের ইতিহাস
      • ইসলামের ইতিহাস
      • বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস
    • ইসলাম ও মতবাদ
      • গণতন্ত্র
      • সমাজতন্ত্র
      • রাজতন্ত্র
      • পুঁজিবাদ
      • উদারতাবাদ
      • নারীবাদ
      • মুসলিম দর্শন
      • অন্যান্য মতবাদ
    • সাহিত্য-সাময়িকী
      • গল্প
      • কবিতা
      • প্রবন্ধ
      • রম্যগল্প
      • সাহিত্য সমালোচনা
      • বুক রিভিউ
      • ফিচার
    • বিজ্ঞান
      • ডক্টর’স চেম্বার
      • মুসলিম বিজ্ঞান
      • করোনা
      • সায়েন্স ফিকশন
    • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
      • ঈদুল ফিতর
      • ঈদুল আজহা
      • হিজরি নববর্ষ
      • কারবালা
      • মহররম
      • হামদ
      • নাতে রাসুল
      • ইসলামী গান
    • অন্যান্য
      • বাংলাদেশ
      • শিশুতোষ
      • মাসয়ালা-মাসায়েল
      • প্রত্যাবর্তন
      • উম্মাহর সংকট ও সমাধান
      • ভ্রমণকাহিনী
  • নোটিশ
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ

© 2020 মিম্বার